এবারের বিপিএলে সর্বশেষ আট ম্যাচের আটটিতেই জয়। এমন অপ্রতিরোধ্য দলকে কে ঠেকায়! বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল এখন পর্যন্ত যে দুটি ম্যাচ হেরেছে, সেই দুটি ম্যাচও তাদের কাছে। রংপুর রাইডার্স এবারের বিপিএল থেকে যাচ্ছিল অজেয়।
অবশেষে হোঁচট খেল সেই রংপুর, সেটাও এমন এক দলের বিপক্ষে, যারা এই বিপিএলে মাঠ ও মাঠের বাইরে পার করছে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত সময়, দুর্বার রাজশাহী। চট্টগ্রাম পর্বে দুই দলেরই শেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রংপুরকে তারা হারিয়েছে ২৪ রানে। আগেই প্লে অফ নিশ্চিত করা রংপুরের নবম ম্যাচে এটি প্রথম হার, দশম ম্যাচে রাজশাহীর চতুর্থ জয়। জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ১৭১ রানের লক্ষ্যে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহী তৃতীয় ওভারে হারায় মোহাম্মদ হারিসকে (১২ বলে ১৯)। এই নিয়ে রাজশাহীর ১০টি ম্যাচেই ব্যর্থ হলেন পাকিস্তানি ওপেনার। তিন ম্যাচ পর একাদশে ফেরার সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগান সাব্বির হোসেন। তৃতীয় ওভারে রকিবুলের বলে ম্যাচের প্রথম ছক্কা মারেন তিনি। এক ওভার পর সাইফ উদ্দিনকে ছক্কার পর দুই চারে স্বাগত জানান ২৭ বছর বয়সী ওপেনার। সপ্তম ওভারে আক্রমণে আসা নাহিদ রানার ১৪৭ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে ছক্কা মারেন তিনি চাবুকের মতো ব্যাট চালিয়ে।
পরে ছয় ছক্কায় ৩২ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলেন ইয়াসির আলি চৌধুরি। এবারের বিপিএলে এখনও পর্যন্ত তার ছক্কা ২৪টি। পাঁচ নম্বরে নেমে শুরুতে কিছুটা সময় নেন ইয়াসির। অন্য প্রান্তে এনামুল হকও খোলসে ঢুকে গেলে টানা তিন ওভার বাউন্ডারি পায়নি রাজশাহী।
একাদশ ওভারে শেখ মেহেদি হাসানের প্রথম বল ছক্কায় ওড়ান ইয়াসির। শেষ বলে মারেন চার। দুই ওভার পর রকিবুলের বলে পরপর দুটি ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকে। পরে সাইফ উদ্দিনের বলেও দুটি ছক্কা মেরে মাত্র ২৭ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন তিনি। তার প্রতিটি ছক্কায় টাইমিংয়ের সঙ্গে ছিল পেশির জোরের মিশেল।
তাকে ফিরিয়ে রংপুরকে আবার স্বস্তি এনে দেন সে খুশদিল। চতুর্থ উইকেটে ৫০ বলে ৭৬ রানের জুটি গড়েন ইয়াসির ও এনামুল। যেখানের এনামুলের অবদান ১৮ বলে মাত্র ১৬ রান।
রাজশাহীর ৯ উইকেটে করা ১৭০ রানের জবাবে রংপুর জেতার মতো অবস্থায় ছিল না কখনোই। ১৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুটাই নড়বড়ে হওয়ার পর আর একবারের জন্যও খেলায় ফিরতে পারেনি তারা। সাইফ হাসানের ২৯ বলে ৪৩ এবং অধিনায়ক নুরুল হাসানের ২৬ বলে ৪১ রানের ইনিংস দুটি আরেকটু বড় হলে সম্ভাবনা ছিল শেষটা ভালো হওয়ার। কিন্তু দুজনের কেউই তা পারেননি।
রাজশাহীর হয়ে রায়ান বার্ল ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। তাসকিন ও মেহরবের উইকেট দুটি করে। ১ উইকেট করে পেয়েছেন শফিউল ও সাব্বির। আগের ম্যাচগুলোর ভ্রু কুঁচকে দেওয়া বোলিংয়ের কারণেই শফিউলের আজ ৩ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়াটাকে বিশেষ কিছু মনে হচ্ছে। মেহেদী হাসানের কাছে শেষ বলে বাউন্ডারি না খেলে নিজের তৃতীয় ওভারটা তো মেডেনই পেয়ে যাচ্ছিলেন এক সময় জাতীয় দলে খেলা এই পেসার!
শেষ ৪ ওভারে ৪৯ রানের সমীকরণে বার্লের প্রথম পাঁচ বলে বাউন্ডারি মারতে ব্যর্থ হন সোহান ও সাইফ উদ্দিন। শেষ বলে বড় শটের চেষ্টায় উইকেট হারান সোহান (২৬ বলে ৪১)। পরে সাইফ উদ্দিন (১৪ বলে ২৩) কিছুটা কমান ব্যবধান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দুর্বার রাজশাহী: ২০ ওভারে ১৭০/৯ (হারিস ১৯, সাব্বির ৩৯, এনামুল ৩৪, বার্ল ০, ইয়াসির ৬০, আকবর ২, মেহেরব ৪, সানজামুল ২, তাসকিন ৪, শফিউল ২*, মোহর ৩*; রকিবুল ৪-০-৩৮-১, খুশদিল ৪-০-৩১-৩, আকিফ ৪-০-২৩-৩, সাইফ উদ্দিন ২-০-৩২-০, নাহিদ ৩-০-২৭-১, মেহেদি ৩-০-১৮-০)
রংপুর রাইডার্স: ১৯.২ ওভারে ১৪৬ (টেইলর ৪, ইরফান ০, সাইফ হাসান ৪৩, ইফতিখার ০, খুশদিল ১৪, সোহান ৪১, মেহেদি ৮, সাইফ উদ্দিন ২৩, আকিব ১, রকিবুল ২*, নাহিদ ০; তাসকিন ৩.২-০-২০-২, মেহেরব ৩-১-১৯-২, সানজামুল ৩-০-২৮-০, মোহর ২-০-২৩-০, শফিউল ৩-০-১৬-১, সাব্বির ১-০-১৬-১, বার্ল ৪-০-২২-৪)
ফল: দুর্বার রাজশাহী ২৪ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: রায়ান বার্ল
Editor PI News