সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতীপূজা আজ। সনাতন ধর্মবিশ্বাস মতে, সরস্বতী বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সাদা রাজহাঁসে চড়ে দেবী সরস্বতী নেমে আসেন পৃথিবীতে।
হিন্দুধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সকালে দেবীকে দুধ, মধু, দই, ঘি, কর্পূর, চন্দন দিয়ে স্নান করানো হয়। এরপর চরণামৃত নেন ভক্তরা। এরপর বাণী অর্চনা। পুরোহিতেরা ‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে/ বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাংদেহী নমোহস্তুতে’—এ মন্ত্রে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা এবং পূজার আচার পালন করেন। এরপর ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর চরণে প্রণতি জানান।
পূজা ছাড়াও অন্য অনুষ্ঠানমালায় আছে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা প্রভৃতি। এ ছাড়া দেবীর সামনে ‘হাতেখড়ি’ দিয়ে শিশুদের বিদ্যাচর্চার সূচনা হবে বিভিন্ন স্থানে।
শুক্লা পঞ্চমীর মাহেন্দ্রক্ষণে সরস্বতীপূজা হয়। এই শুক্লা পঞ্চমী তিথি বসন্ত পঞ্চমী, শ্রীপঞ্চমী, সরস্বতী পঞ্চমী, ঋষি পঞ্চমী নামেও পরিচিত। এই দিনে মা সরস্বতীর জন্ম হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। ঋগ্বেদ অনুসারে, ব্রহ্মা তাঁর নিজের সৃষ্টিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। চারদিকে নিস্তব্ধতা। তারপর তিনি তাঁর কমণ্ডলু থেকে জল ছিটিয়ে দিলেন, যার ফলে এক চতুর্ভুজা নারী তাঁর হাতে বীণা নিয়ে হাজির হলেন। ব্রহ্মার আদেশে দেবী বীণায় সুমধুর সুর তোলেন, যা বিশ্বকে শব্দ ও বাণীতে অভিভূত করে। এরপর ব্রহ্মা দেবীর নাম রাখেন ‘সরস্বতী’। যিনি সারদা ও বাগ্দেবী নামেও পরিচিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেবীর বাহুর সংখ্যা অধিকতর হলেও সাধারণত তিনি চতুর্ভুজা, পদ্মাসনা, শুক্লাবর্ণা, শুভ্রবর্ণা, বীণা-পুস্তক, জপমালা, সুধাকলসর্ধারিণী, চন্দ্রশেখরা, ত্রিলোচনা। কখনো দেবী দ্বিভুজা। তন্ত্রে সরস্বতী বাগীশ্বরী-বর্ণেশ্বরী সারদা।
বৃহস্পতি হচ্ছেন জ্ঞানের দেবতা, তিনি বাক্পতিও। ইন্দ্রও বাক্পতি। বৃহস্পতিপত্নী সরস্বতীও জ্ঞানের দেবী। সব জ্ঞানের ভান্ডার তো ব্রহ্মা-বিষ্ণু আর মহেশ্বরের। তাঁদেরই শক্তিতে সরস্বতী জ্ঞানের দেবী। সরস্বতী নদীর তীরে যজ্ঞের আগুন জ্বেলে সেখানেই ঋষিরা লাভ করেছিলেন বেদ, ঋগ্মন্ত্র। সুতরাং সরস্বতী জ্ঞানের দেবী হিসেবেই পরিচিত হয়েছিলেন ধরাতে। দিন দিন সরস্বতী তাঁর অন্য বৈশিষ্ট্যগুলো হারিয়ে কেবল বিদ্যাদেবী; অর্থাৎ জ্ঞান ও ললিতকলার দেবীতে পরিণত হলেন।
Editor PI News