ইলন মাস্কের দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে কথাও বলেছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
স্টারলিংক বাংলাদেশে এলে খুব সহজেই দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাবে দুর্গম ও পার্বত্য এলাকায়। শহরের বাইরে গ্রামে বসেই উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পাবেন ব্যবহারকারীরা। ফলে শহর ও গ্রামের পার্থক্য দূর হয়ে যাবে।
আরেকটি সুবিধা হলো স্টারলিংক গোপনীয়তা রক্ষা করে। তবে, প্রতিষ্ঠানটি যদি বাংলাদেশে আড়িপাতার সুযোগ না দেয় তাহলে গ্রাহকরা আরো বেশী আর্কষ্ট হবেন। অবশ্য স্টারলিংক অনেক বেশি ব্যয়বহুল। সাধারণের পক্ষে তা ব্যবহার করা কঠিন।
দেশে আমরা এখন যে ইন্টারনেট ব্যবহার করি তা সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দেওয়া হয়। যা তারের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ এনে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডররা মানুষকে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইড করে।
কিন্তু স্টারলিংক সেবা দেয় সেটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে। তাদের ইন্টারনেট সেবা জিওস্টেশনারি থেকে দেওয়া হয়। যা পৃথিবী থেকে ৩৫ হাজার ৭৮৬ কিলোমিটার উপরে।
বিশ্বের প্রায় ১০০টির বেশি দেশে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। দক্ষিন এশিয়ায় প্রথম দেশ হচেছ ভুটান। ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে স্পেসএক্স এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্টারলিংক।
বাসাবাড়িতে স্টারলিংকের সেবা পেতে কিছু সরঞ্জাম কিনতে হয়। যেখানে থাকে একটি রিসিভার, কিকস্ট্যান্ড, রাউটার, তার এবং পাওয়ার সাপ্লাই। এটিকে স্টারলিংক কিট বলা হয়। যার মূল্য ৩৪৯ ডলার থেকে ৫৯৯ ডলার পর্যন্ত বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪৩ হাজার থেকে ৭৪ হাজার টাকা।
আবাসিক গ্রাহকদের জন্য মাসিক ফি ১২০ ডলার বা ১৫ হাজার টাকা। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য দ্বিগুনেরও বেশি।
বাংলাদেশে ২০২৩ সালে স্টারলিংক প্রযুক্তিগত পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায়। সেসময় তারা তৎকালীন সরকারের সঙ্গে বৈঠকও করে। সেসময় সরকার আড়িপাতার সুবিধা চেয়েছিল কিন্তু, স্টারলিং তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এখন দেখার বিষয় নতুন সরকার আড়িপাতার সুবিধা চায় নাকি স্টার লিংকের শর্ত মেনে তাদের ব্যবসা করতে দিবে।
Editor PI News