স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার একান্ত সহকারি সচিব, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই অভিযোগ রয়েছে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা (ছাত্র প্রতিনিধি) তুহিন ফারাবি ও ডা. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদবির বাণিজ্য ও ফ্যাসিবাদ দোসরদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থের বিনিময়ে পুনর্বাসনে সহায়তা করার মাধ্যমে শত কোটি টাকা উপার্জন করেছেন।
তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ উঠার পর সরকার এরই মধ্যে তাদের অব্যাহতি দিয়ে সরকারি আদেশ জারি করেছে। অন্যদিকে ডা. মাহমুদুল হাসানের বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি সেখান থেকে দেশে ফিরবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
দৈনিক ইত্তেফাক এক রিপোর্টে জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ঘুরে ঘুরে তদবির করতেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপদেষ্টা হওয়ার কিছুদিন পরই এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেন মোয়াজ্জেম হোসেনকে। নিয়োগ পেয়েই তদবির বাণিজ্যে নেমে পড়েন মোয়াজ্জেম। গণমাধ্যমের দৃষ্টি এড়াতে বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদবিরের কাজ করতেন। তাদের ভয়ে তটস্থ থাকতেন বিগত সময়ের আমলা এবং কর্মকর্তারা।
মোয়াজ্জেমকে খুশি করতে সে যা চেয়েছে তাই দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা। এমনকি পুলিশের জন্য গোলাবারুদ, শটগানসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনায় ঠিকাদারদের বিল পাইয়ে দিতেও তদবির করেছেন মোয়াজ্জেম।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার এবং প্রকৌশলী বদলির তদবির করতেন মোয়াজ্জেম। সন্ধ্যার পর অফিস করতেন সেগুনবাগিচায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে। সেখানে বসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলার প্রকৌশলী বদলির তালিকা করতেন। একেকটি বদলিতে লাখ লাখ টাকা কমিশন দিতে হতো তাকে।
এছাড়া স্থানী সরকারের অধীন পৌরসভার সচিব-প্রকৌশলী, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তার নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মোয়জ্জেম এসব বদলি বাণিজ্য করে শতকোটি টাকা হাতিয়েছন বলে অভিযোগ খোদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের।
এদিকে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুই ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা (ছাত্র প্রতিনিধি) তুহিন ফারাবী ও ডা. মাহমুদুল হাসান দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল, সিভিল সার্জন, পরিচালক, উপ পরিচালক নিয়োগ বাণিজ্যের নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ-বদলি বাণিজে ১৫-২০ লাখ টাকা করে নিতেন তারা।
৫ আগস্টের পর পালিয়ে যাওয়া ঠিকাদারদের বদলে নতুন ঠিকাদার নিয়োগে কমিশন বাণিজ্য করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে তুহিন ফারবীকে অপসারণ করা হলেও ডা. মাহমুদুল হাসান এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
সূত্র: যুগান্তর
Editor PI News