রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় গোপন আস্তানা গড়ে তুলেছে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ। এখান থেকে রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা ও করা হচ্ছে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা।
স্বৈরাচারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাহাঙ্গীর কবীর নানকের সাথে নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগ করা হয় এখান থেকে। বৈঠকে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে ঝটিকা মিছিলসহ নাশকতার মাধ্যমে জনমনে আতংক সৃষ্টি করা হচ্ছে। আর অর্থের জোগানদাতা নানক।
আস্তানায় আওয়ামী লীগের অনেক বুদ্ধিদাতার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলে জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দারা। আস্তানার মালিক হাছান মাহমুদ। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। হাছান মাহমুদ ও নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পলাশ চৌধুরীর ছেলের সাথে প্রায় প্রতি রাতে টেলিফোনে কথা বলেন ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক।
হাছান মাহমুদ, দুলাভাই পলাশ, দুই ভাগ্নে যুবলীগ নেতা পিউল ও ছাত্রলীগ নেতা পাপন এই চারজন মিলে নেতাকর্মীদের সংঘটিত করছেন এবং দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এদের অর্থের যোগানদাতা ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হাছান মাহমুদের বাসা মোহাম্মদপুর মেট্রোপলিটন হাউজিংয়ের ৩৫ নম্বর বাড়ি, থাকেন লিফটের ৫-বি ফ্ল্যাটে। আর পলাশ চৌধুরী থাকেন একই হাউজিংয়ের ৪৮ নম্বর বাড়িতে, লিফটের ৪-এ।
হাছান মাহমুদের গাড়িতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চ্যানেলের স্টিকার লাগিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। অথচ রাজনীতির বাইরে পেশাগত বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মধু সিটির অপারেশন হেড পদে চাকরি করতেন তিনি। মধু সিটিতে তার নির্মানাধীন নয় তলা ভবন রয়েছে বলেও জানা যায়।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, পিউল এবং তার মামা হাছান মাহমুদ প্রতিদিন রাত ১২টার পর নানকের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। এমনকি নানকের ছত্রছায়ায় জহুরী মহল্লা, আজিজ মহল্লা, বাবররোডসহ মোহাম্মদপুরে মাদকের নিয়ন্ত্রণ করতেন পিউল। পুলিশের কাছে এ বিষয়ে তথ্য থাকলেও তাদের কখনো গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
এদিকে, হাছান মাহমুদের বাসায় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে, কিন্তু ৫ আগস্টের পর স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি তা জমা দেননি। হাছান মাহমুদের বাবা-মা স্থানীয় আওয়ামী লীড়ের রাজনীতির সাথে জড়িত। তাদের বাসায় আরো বিভিন্ন অস্ত্রের মজুদ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
Editor PI News