"টেলিফোবিক" বলতে টেলিফোন ভীতি বা টেলিফোনফোবিয়াকে বোঝানো হয়, যা হলো ফোন কল করা বা রিসিভ করার একটি চরম ভয়। এই ভীতি এক ধরনের সামাজিক উদ্বেগ বা সামাজিক ভীতি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এতে ফোন বেজে উঠলে বা কল করার প্রয়োজন হলে অস্বস্তি, ভয় বা বুক ধড়ফড় করার মতো অনুভূতি হয়।
এই ভয় বা অস্বস্তি নতুন কিছু নয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে তা বেড়ে গেছে বহু গুণ।
মনোবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ফোনকলের প্রতি এই ভয় বা অস্বস্তি আধুনিক যোগাযোগ সংস্কৃতির ফল।
যাদের মধ্যে এই মানসিক বৈশিষ্ট্য বেশি তারা হঠাৎ ফোনকল পেলে নার্ভাস হয়ে পড়েন। ২০২২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে সামাজিক উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা সহ্য করতে না পারা এই ফোন ভীতির প্রধান দুটি কারণ।
মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে টেলিফোবিয়া কোন ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস নয়। অর্থ্যাৎ ডাক্তার বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা একে আলাদা রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেন না। তবে এটি সামাজিক উদ্বেগজনিত সমস্যার একটি অংশ।
টেলিফোবিয়া সামলানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ধীরে ধীরে নিজেকে অভ্যস্ত করা। ভয়েস মেসেজে প্রথমে নিজের সঙ্গে নিজেই মেসেজ আদান-প্রদান করা। এরপর কাছের মানুষদের সঙ্গে ফোনে আড্ডা দেওয়া। এভাবে ধাপে ধাপে মস্তিষ্ক বুঝতে শেখে যে ফোনকল স্বাভাবিক ঘটনা।
এছাড়া ফোন ধরার আগে কয়েক সেকেন্ড গভীর শ্বাস নেওয়া বা মনোসংযোগের অনুশীলন করলে শরীর শান্ত হয়, হার্টবিট স্বাভাবিক থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কথোপকথনকে ‘পারফরম্যান্স’না ভেবে ‘আলাপ’হিসেবে নেওয়া।
Editor PI News