আশির দশকে দুই বন্ধু—রফিক আর কামাল—প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাঠের ধারে বসত। হাতে থাকত না কোনো মোবাইল, পকেটে নোটিফিকেশন নয়, শুধু সময়। তারা গল্প করত স্কুল, স্বপ্ন, ভয় আর ভবিষ্যৎ নিয়ে। কারও চোখে চোখ রেখে কথা বলার সেই নিশ্চিন্ত মুহূর্তে সম্পর্ক ছিল স্পর্শযোগ্য, গভীর এবং ধীর।
আজ সেই ধীরতার কোনো জায়গা নেই। মানুষের সম্পর্ক এখন দ্রুতগতির—একটি ‘seen’, একটি emoji, অথবা নিঃশব্দ স্ক্রলিংয়ে আটকে থাকে অনুভূতি। মুখোমুখি আলাপের বদলে আমরা পাঠাই ভয়েস নোট, চিঠির বদলে স্ট্যাটাস, আর দীর্ঘ কথোপকথনের বদলে ছোট ছোট প্রতিক্রিয়া। মানুষ আছে, কিন্তু উপস্থিতি নেই।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আমাদের যুক্ত করেছে ঠিকই, কিন্তু কাছাকাছি এনেছে কি? একই ঘরে বসেও আমরা আলাদা স্ক্রিনে বন্দি। সম্পর্কের উষ্ণতা এখন ফিল্টারের নিচে চাপা পড়ে যায়। অনুভূতি প্রকাশের ভাষা হয়ে উঠেছে ‘react’ বাটন, আর নীরবতা মানেই ব্যস্ততা।
তবু সম্পর্ক পুরো হারায়নি। এখনো সম্ভব ফোন নামিয়ে রাখা, চোখ তুলে তাকানো, প্রশ্ন করা—“কেমন আছ?” স্ক্রিনের বাইরে জীবন আছে, মানুষ আছে। সম্পর্ক বাঁচাতে হলে আমাদের আবার মানুষে ফিরতে হবে, নোটিফিকেশনের ভিড় থেকে বেরিয়ে।
অথচ একটা সময় আমাদের জীবনের সবচেয়ে দামী অংশ ছিল সম্পর্ক। আপনি কি অনুভব করছেন এমন দূরত্ব—যেখানে পাশে বসে থাকা মানুষটিও অনেক দূরের মনে হয়? যেখানে কথা আছে, কিন্তু সংযোগ নেই; সময় আছে, কিন্তু উপস্থিতি নেই। স্ক্রিনের আলোয় আমরা জেগে থাকি, অথচ সম্পর্কগুলো ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ে।
Editor PI News