নিশ্চয়ই মনে আছে আপনার শীতকালে গ্রামে বসে সেদ্ধ বা পোড়া মিষ্টি আলু খাওয়ার কথা? আর মিষ্টি আলুর ঘ্রান একবার নাকে গেলে সেটা ভুলে যাওয়া আরো কঠিন। কিন্তু আপনি জানেন কি, এই মিষ্টি আলুর ভেতর লুকিয়ে রয়েছে চমকপ্রদ কিছু স্বাস্থ্যগুণ। চলুন জেনে নেই মিষ্টি আলুর ছয়টি উপকারিতা।
মিষ্টি আলুতে একই সাথে রয়েছে ফাইবার বা আঁশ, খনিজ আর ভিটামিন। বিশেষ করে হলুদ আর বেগুনি মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরকে ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এই ফ্রি র্যাডিকেলই বয়স বাড়া, হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকির সাথে জড়িত।
মিষ্টি আলুর আঁশ হজমতন্ত্রে গিয়ে মল নরম রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। কারণ মিষ্টি আলুতে রয়েছে দুই ধরনের আঁশ-দ্রবনীয় ও অদ্রবনীয়। এছাড়া অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করে। ফলে অন্ত্র সুস্থ থাকে, পেট থাকে পরিষ্কার এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
বিশেষ করে বেগুনি মিষ্টি আলুতে অ্যাস্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকার কারণে পরীক্ষাগারে দেখা গেছে এটি ক্যানসারের কোষের বৃদ্ধি ধীর করে দেয়। মূত্রথলি, কোলন, পাকস্থলি ও স্তনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এমন ফল মিলেছে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট খাবার খেলে যে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে তা বহু গবেষণায় প্রমাণিত।
হলুদ আর বেগুনি মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন। শরীরে ঢোকার পর এটি ভিটামিন এ-তে রূপ নেয়, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহাজ্য করে। নিয়মিত মিষ্টি আলু খেলে রাতকানা বা চোখের শুষ্কতার মতো সমস্যা কম হয়।
মিষ্টি আলুতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে। এছাড়া স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমনেশিয়ার ঝুঁকি কমায়।
মিষ্টি আলু ভিটামিন এ- এর অন্যতম উৎস। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী রাখে। এ ছাড়া অন্ত্রের আবরণ সুস্থ রাখতে ভিটামিন এ জরুরি।
Editor PI News