মূল্যস্ফীতির কথা বলে গেল চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রনীতি প্রণয়ন করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের সুদহার বাড়িয়ে চাহিদা নিয়ন্ত্রনই ছিলো এর প্রধান লক্ষ্য।
কিন্তু গত চার বছরে রেকর্ড ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অস্বাভাবিক এ মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে সুদ আয়ের পাশাপাশি স্বল্প সময়ে টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়ন বড় ভূমিকা রেখেছে।
রেকর্ড পরিমাণ মুনাফার প্রভাবে গত চার বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ প্রায় ৫২ শতাংশ বেড়েছে। অথচ গত চার অর্থবছরজুড়েই দেশের অর্থনীতি এগিয়েছে চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে এ সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে নাভিশ্বাস। বেসরকারি বিনিয়োগে দেখা গেছে নজিরবিহীন স্থবিরতা। এ সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবর্তে বেকারত্বের শিকার হয়েছেন অনেক মানুষ। সঞ্চয় ভেঙে ফেলায় মানুষের ভোগ ব্যয়েও পতন হয়েছে। ব্যয়ের তুলনায় আয় না বাড়ায় দারিদ্র্যের হার বেড়েছে বলেও দেশী-বিদেশী নানা সমীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ মুনাফা করা নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংক খাতের তদারকি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই তার মূল কাজ। অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের দুর্দশার কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা এতটা বেড়েছে। তবে মুনাফা করতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন মূল লক্ষ্য থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিচ্যুত না হয়, সেটি নজরে রাখতে হবে।
বেশি দামে ডলার বিক্রির ফলে এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বাড়ার পাশাপাশি বাজার থেকে তারল্যও উঠে আসে। ফলে দেশের ব্যাংক খাতে সৃষ্টি হয় তারল্য সংকট। আর এ সংকট মেটাতে ব্যাংকগুলোকে রেপো ও এএলএসের মাধ্যমে অর্থ ধার বাড়াতে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে সুদ খাত থেকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আয় বাড়তে শুরু করে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুনাফার পরিমাণ ৪৭ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকায় ঠেকে। এর মধ্যে ৯ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা আয় আসে সুদ খাত থেকে। আর ডলার বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত আয় দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫২ কোটি টাকা। একই সময়ে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ১৯ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার অনর্জিত আয়ও হয়।
সূত্র: বনিকবার্তা
Editor PI News