ঢাকার মিরপুরের শিক্ষার্থী রায়হান অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে অনেক দিন ধরে। সম্প্রতি সে শুনেছে স্টুডেন্ট ভিসার নিয়মে এসেছে বড় পরিবর্তন—জেনুইন স্টুডেন্ট (জিএস) শর্ত। বিষয়টি বুঝতে না পেরে সে এক অভিজ্ঞ এডুকেশন কনসালটেন্টের কাছে যায়। রায়হানের প্রশ্ন, “নতুন নিয়মে কীভাবে আবেদন করলে ভিসা পাওয়া সহজ হবে?” কনসালটেন্ট তাকে ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দেন, এখন আর শুধু কাগজপত্র নয়, নিজের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রমাণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ থেকে চালু হয়েছে জেনুইন স্টুডেন্ট (জিএস) শর্ত। এর ফলে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর আগে যে জেনুইন টেম্পোরারি এন্ট্রান্স (জিটিই) নীতি ছিল, সেখানে মূলত অস্থায়ীভাবে পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার বিষয়টি গুরুত্ব পেত। কিন্তু নতুন জিএস শর্তে আবেদনকারীর শিক্ষাগত লক্ষ্য, কোর্সের প্রাসঙ্গিকতা এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
জেনুইন স্টুডেন্ট হিসেবে বিবেচিত হতে আবেদনকারীকে দেখাতে হবে কেন সে নির্দিষ্ট কোর্সটি বেছে নিয়েছে, তা তার পূর্ববর্তী শিক্ষার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে এটি কীভাবে কাজে লাগবে। পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা এবং পূর্ববর্তী ভিসা ইতিহাসও বিবেচনায় নেওয়া হবে। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত বিবৃতি (স্টেটমেন্ট) এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থায়ী বসবাসের (পিআর) সুযোগ নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিএস শর্ত সরাসরি পিআর সুবিধা বাতিল করছে না। তবে ভিসা পাওয়ার সময় আবেদনকারীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে তার মূল উদ্দেশ্য পড়াশোনা। ভবিষ্যতে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পিআর আবেদন করার সুযোগ আগের মতোই থাকছে।
নতুন এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে, যা আবেদনকারীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিচ্ছে। ফলে ভিসা প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা কিছুটা কমবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে আগ্রহীদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো—নিজের শিক্ষাগত লক্ষ্য পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা এবং যথাযথ প্রমাণসহ আবেদন করা। তবেই জিএস শর্ত পূরণ করে সফলভাবে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।