লিপি, বয়স প্রায় চল্লিশ। সকাল শুরু হয় ফোন হাতে নিয়েই। ঘুম ভাঙার আগেই সে চেক করে মেসেজ, ফেসবুক, খবর। একদিন হঠাৎ ফোনটি খুঁজে না পেয়ে তার বুক ধড়ফড় করতে থাকে, হাত কাঁপে, অস্থির হয়ে ওঠে। স্বামী নাদিম অবাক হয়ে দেখেন, মাত্র ১০ মিনিট ফোন ছাড়া থাকতে না পেরে লিপি প্রায় কান্নায় ভেঙে পড়েছে। পরে ফোনটি সোফার নিচে পাওয়া গেলেও, সেই কয়েক মিনিটে লিপি বুঝে যায়—সে এক অদৃশ্য ভয় বা নির্ভরতার মধ্যে আটকে গেছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই সমস্যাটির নাম ‘নোমোফোবিয়া’ বা ‘নো মোবাইল ফোন ফোবিয়া’। এটি এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে মানুষ মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় বা উদ্বেগে ভোগে। গবেষণা বলছে, এটি অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ উদ্বেগ বা আচরণগত আসক্তির মতো লক্ষণ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নোমোফোবিয়ার মূল কারণ হলো স্মার্টফোনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। যোগাযোগ, তথ্য পাওয়া, বিনোদন—সবকিছু এক ডিভাইসে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ ফোন ছাড়া নিজেকে অসহায় মনে করে। এছাড়া ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ (FOMO), সামাজিক উদ্বেগ, এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

এর প্রভাবও কম নয়। নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে উদ্বেগ, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, এমনকি মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ব্যক্তির সামাজিক সম্পর্ক, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তবে এর প্রতিকার সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধীরে ধীরে ফোন ব্যবহারের সময় কমানো, নির্দিষ্ট সময় ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ করা, সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং প্রয়োজন হলে কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপির মতো চিকিৎসা নেওয়া কার্যকর হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মতে, নোমোফোবিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত রোগ না হলেও এটি দ্রুত বাড়তে থাকা একটি বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
Editor PI News