লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজের পরদিন ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনী রানী (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিশুর বস্তাবন্দি ও মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মূল অভিযুক্ত শিশুটির পারিবারিক চাচা বিধানকে (১৯) আটক করার পর তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা আসামির বাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও ইউএনও’র গাড়ি ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
১৬ জুন সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী ওই গ্রামের কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৫ জুন (সোমবার) বিকেল থেকে সে নিখোঁজ ছিল।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে আদিতমারী থানা পুলিশ শিশুটির পারিবারিক চাচা বিধানকে (১৯) প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে। তবে আসামিকে থানায় নেওয়ার পথে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের পথরোধ করে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং বিধানের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ইউএনও অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আসামিকে নিয়ে ফেরার সময় জনতা পুনরায় উত্তেজিত হয়ে প্রশাসনের গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ডিসি, এসপি ও ইউএনও’র সরকারি গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান জানান, আসামিকে নিয়ে আসার সময় অতর্কিত ইটপাটকেল নিক্ষেপে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, রাষ্ট্রীয় কাজে বাঁধা দেওয়ার অপরাধে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
Editor PI News