ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দারুণ এক ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছে ইংল্যান্ড। ছয় গোলের রোমাঞ্চকর এই লড়াইয়ে ইংলিশদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। তবে হারের ম্যাচেও দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়েছে ২০১৮ সালের রানার্সআপরা।
যুক্তরাষ্ট্রের আর্লিংটন টেক্সাসে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়ামে 'এল' গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে ইংল্যান্ড। দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইন ছিলেন যথারীতি প্রাণভোমরা। বল বিতরণ, আক্রমণ গঠন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি—সবকিছুতেই ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অন্যদিকে মিডফিল্ডে জুড বেলিংহেম ছিলেন অসাধারণ। তরুণ এই তারকা নিজের সৃজনশীলতা, গতি এবং নিখুঁত পাসিং দিয়ে পুরো ম্যাচে ইংল্যান্ডের খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন। তার দারুণ পারফরম্যান্সে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি হয় ইংলিশদের।
ম্যাচের ১২ মিনিটে ননি মাদুয়েকেকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন লুকা মদরিচ। প্রথম শট লিভাকোভিচ ঠেকালেও পুনরায় নেওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন হ্যারি কেইন। তবে ৩৬ মিনিটে মার্টিন বাতুরিনার দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। ৪২ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কেইন। কিন্তু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ইভান পেরিসিচের হেড থেকে বল পেয়ে জোরালো শটে ২-২ করেন পেতার মুসা।
তবে স্কোরলাইন যতটা একপেশে মনে হয়, মাঠের লড়াই ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ক্রোয়েশিয়া দুটি অসাধারণ গোল করে ম্যাচে বারবার ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। বিশেষ করে তাদের আক্রমণভাগের গতিময়তা এবং দূরপাল্লার প্রচেষ্টাগুলো ইংল্যান্ডকে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলে। দুই গোলই ছিল অসাধারণ ফিনিশিংয়ের উদাহরণ, যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
বিরতির পরই আবারও এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্সরা। ৪৭ মিনিটে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের পাস ধরে প্রায় অর্ধমাঠ দৌড়ে গোল করেন জুড বেলিংহেম। এরপর একের পর এক আক্রমণ চালালেও লিভাকোভিচের দুর্দান্ত সেভে ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৮৫ মিনিটে বুকায়ো সাকার পাস থেকে মার্কাস রাশফোর্ড গোল করলে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের।
এই ম্যাচের আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিলেন লুকা মদরিচ। ৪০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডার নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপে মাঠে নেমে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরো ম্যাচজুড়ে মিডফিল্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। অভিজ্ঞতা, পাসিং এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে এখনও যে তিনি অনন্য, তা আবারও প্রমাণ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই তারকা।
ক্রোয়েশিয়ার হার সত্ত্বেও গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ ছিলেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। ইংল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণের মুখে অসংখ্য দুর্দান্ত সেভ করে তিনি ব্যবধান আরও বড় হতে দেননি। কেইন, বেলিংহেম ও ইংল্যান্ডের অন্য ফরোয়ার্ডদের কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগও নষ্ট করে দেন এই গোলরক্ষক।
শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় এক লড়াই। আর ক্রোয়েশিয়া হারলেও দেখিয়ে দিয়েছে, তারা এখনও বড় মঞ্চে প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
Editor PI News