তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। প্রায় দুই বছর আগে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা এই নেতা শেষ পর্যন্ত নিজ দলের ভেতর থেকেই ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবির মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন।
সোমবার লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে স্টারমার তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, দলের ভেতর থেকে যে বার্তা এসেছে তিনি তা শুনেছেন এবং সেই সিদ্ধান্তকে ‘সদয়ভাবেই’ গ্রহণ করছেন। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে একটি সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে তিনি প্রয়োজনীয় সবকিছু করবেন।
বক্তব্যে স্টারমার বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। তিনি তার সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিটেনের অবস্থান পুনরুদ্ধারের উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির বিশাল জয়ের পর ক্ষমতায় এসে স্টারমার দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা এবং রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর কনজারভেটিভদের কাছ থেকে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে তিনি নতুন যুগের সূচনার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তবে গত কয়েক মাস ধরেই তার ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ছিল। স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের হতাশাজনক ফল, জনপ্রিয়তা হ্রাস, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। কয়েকজন মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ্যে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অনেক সংসদ সদস্য পদত্যাগের দাবি জানান।
এদিকে, সাবেক ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে জয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনেকের মতে, বার্নহাম দলের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা ও জনসমর্থন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হতে পারেন। তার ওয়েস্টমিনস্টারে প্রত্যাবর্তনই শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে।
Editor PI News