দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার বা ১২ বিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ছাড়ে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দীর্ঘ আলোচনার পর এ সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা ১৮ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পর এই সমঝোতা অর্জিত হয়েছে।
গালিবাফ বলেন, চুক্তির আওতায় শুধু অবরুদ্ধ অর্থই মুক্ত করা হচ্ছে না, পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পাবে। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের সম্মতির কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ এই আলোচনায় পাকিস্তান ও কাতার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। দুই দেশের কূটনীতিকদের সক্রিয় তৎপরতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটানোর পথ তৈরি হয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেন, অবমুক্ত অর্থের একটি অংশ মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার কাজে ব্যবহার করা উচিত। তবে এ প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কেনার বিষয়ে তেহরানের ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অবমুক্ত হওয়া অর্থ কীভাবে এবং কোন খাতে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ইরান নিজেই নেবে।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি: এআই জেনারেট
Editor PI News