ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার আল জাজিরা, রয়টার্স, এবিসি নিউজ ও ইউরোনিউজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে জাতিসংঘ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। কম্পন অনুভূত হয় প্রতিবেশী কয়েকটি দেশেও।
ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাডো জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানান, ওই এলাকায় শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং অন্তত ৭০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির কারণে সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজধানী কারাকাসেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আফটারশকের আশঙ্কায় বহু মানুষ ঘরে না ফিরে সড়ক কিংবা নিজ নিজ গাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন।
সাংবাদিক মারিয়া এমিলিয়া মিরো কুয়েসাদা আল জাজিরাকে বলেন, অনেক মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এছাড়া যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এল সালভাদর ৩০০ উদ্ধারকর্মী ও ৫০ টন সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। কিউবার চিকিৎসক দল ইতোমধ্যে উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করেছে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকারীরা অভিযানে অংশ নেবেন। পাশাপাশি তুরস্ক, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও চেক প্রজাতন্ত্রও বিশেষজ্ঞ দল, উদ্ধারকারী কুকুর এবং ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস সতর্ক করেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে থাকায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ এখনও পুরোপুরি শুরু না হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
Editor PI News