কখনও কখনও একটি গোল শুধু স্কোরলাইন বদলায় না, বদলে দেয় একটি দলের ভাগ্যের দিকও। আর যখন সেই গোল আসে এমন একজনের পা থেকে, যিনি বছরের পর বছর ধরে দলের ভরসার নাম, তখন সেটি হয়ে ওঠে মুক্তির গল্প। হ্যারি কেইন। আটলান্টার রাতেও ঠিক তেমনই এক গল্প লিখলেন তিনি। তাঁর দুই গোলে বিদায়ের কিনারা থেকে ফিরে এসে ইংল্যান্ড উঠে গেল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে।
প্রবল চাপে থাকা ম্যাচে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচ শেষে ইংলিশ খেলোয়াড়েরা এক সারিতে দাঁড়িয়ে গ্যালারির সমর্থকদের সঙ্গে গান ধরেন। সবার মুখে হাসি, তবে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিল কেইনের মুখ। সেটি শুধু জয়ের আনন্দ নয়, যেন দীর্ঘক্ষণ ধরে জমে থাকা অস্থিরতা থেকে মুক্তির স্বস্তিও।
কিন্তু শুরুটা ছিল পুরোপুরি উল্টো। আটলান্টা স্টেডিয়ামে সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যায় ডিআর কঙ্গো। ডান দিক থেকে লম্বা পাসে ইয়োয়ানে উইসার লাফ, জেড স্পেনসের ভুল অবস্থান—সব মিলিয়ে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে ব্রায়ান সিপেঙ্গা শট নেন। জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ালে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দল।
গোল হজমের পর ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। জুড বেলিংহামের হেড, মার্কাস রাশফোর্ডের শট—একের পর এক আক্রমণ হলেও গোলের দেখা মিলছিল না। ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি দুর্দান্ত সব রক্ষণ করে দলকে এগিয়ে রাখেন।
বিরতিতে ইংল্যান্ড শিবিরে নিশ্চয়ই কঠিন কথাই বলেছেন কোচ টমাস টুখেল। হার মানেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। দ্বিতীয়ার্ধে সেই কথারই প্রতিফলন দেখা যায় মাঠে। ৬১ মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন অ্যান্থনি গর্ডন, আর এরপরই বদলে যেতে থাকে ম্যাচের গতি।
৭৫ মিনিটে আসে সমতার গোল। ডান দিক থেকে ডেকলান রাইসের ক্রস, বাঁ দিক থেকে গর্ডনের নিখুঁত পাস আর শানসেল এমবেম্বার কাঁধ ঘেঁষে ছয় গজ বক্সে উঠে দুর্দান্ত হেডে জাল খুঁজে নেন কেইন। স্কোরলাইন হয় ১-১।
এরপর আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ৮৬ মিনিটে বেলিংহামের দৌড়, এমপাসির প্রথম রক্ষণ, গর্ডনের লড়াই করে বল ধরে রাখা এবং নিখুঁত পাস। বল নিয়ন্ত্রণ করে সামান্য জায়গা তৈরি করেই ডান পায়ের শক্তিশালী শটে জালের ডান দিকের ওপরের কোণে বল পাঠিয়ে দেন কেইন। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এটি চলতি বিশ্বকাপে তাঁর পঞ্চম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৩তম গোল।
একটি দল যখন ভেঙে পড়ার মুখে, তখন কাউকে সামনে এসে দায়িত্ব নিতে হয়। আটলান্টার রাতে ইংল্যান্ডের জন্য সেই মানুষটির নাম ছিল হ্যারি কেইন।
এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা ইংল্যান্ড এখন নকআউট পর্বে মুখোমুখি হবে মেক্সিকোর।
Editor PI News