দেশে বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করতে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ভিসানীতি-২০২৬-এর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে নীতিমালাটি আরও পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
তিনি বলেন, এতদিন বাংলাদেশে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে মূলত পারস্পরিকতার (রেসিপ্রোসিটি) নীতি অনুসরণ করা হতো। অর্থাৎ, কোনো দেশ বাংলাদেশের নাগরিকদের যত দিনের বা যে ধরনের ভিসা দিত, বাংলাদেশও সেই দেশের নাগরিকদের একই ধরনের সুবিধা দিত।

তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এ নীতিতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি। নাসিমুল গনি বলেন, একজন বিদেশি ব্যবসায়ী যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়ে আসেন, তাহলে সেটি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তাই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে ভিসা নীতিকে আরও সহজ ও কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার অর্থনীতিকেন্দ্রিক একটি নতুন উদ্যোগ (ইকোনমিক থ্রাস্ট) বাস্তবায়ন করতে চায়। সে কারণেই ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নীতিমালাটি আরও সমৃদ্ধ করতে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, পর্যটন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থাকবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে ভিসানীতির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নতুন নীতিমালায় বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান আরও সহজ করা হবে, যাতে দ্রুত বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ পুঁজির সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিশ্বের উদ্বৃত্ত পুঁজি বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করছে সরকার।
নতুন ভিসানীতিতে ৩৪টি ভিসা ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে বলেও জানান নাসিমুল গনি।
পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের বিকাশ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই ২০০৬ সালের ভিসানীতিমালা সংশোধন করে ভিসানীতি-২০২৬ প্রণয়ন করা হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করতে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
Editor PI News