ফুটবলে কখনো সৌন্দর্যই শেষ কথা নয়। কখনো একটিমাত্র পেনাল্টি, একটি গোলরক্ষকের অনবদ্য রাত কিংবা একজন স্ট্রাইকারের নির্মম ফিনিশিং বদলে দেয় পুরো গল্প। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চে ভরা এমনই এক রাতে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিল নরওয়ে।
সোমবার নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে নরওয়ে। দুর্দান্ত গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ডের একের পর এক সেভ, ব্রাজিলের পেনাল্টি মিস এবং সুযোগ নষ্টের মাশুল গুনে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। অন্যদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে।
ম্যাচের শুরুতেই কাউন্টার অ্যাটাকে ব্রাজিলকে চমকে দিয়েছিল নরওয়ে। চতুর্থ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে বল জালে পাঠানো হলেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাজিল। ১১ মিনিটে বক্সের ভেতরে মাথেউস কুনিয়াকে ফাউল করলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। তবে স্পট কিক থেকে ব্রুনো গিমারাইসের দুর্বল শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে এই প্রথম কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেনাল্টি মিস করলেন।
পেনাল্টি মিসের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি ব্রাজিল। কিন্তু নরওয়ের সুশৃঙ্খল লো-ব্লক ডিফেন্স আর নিল্যান্ডের দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে বারবার ব্যর্থ হয় তারা। ৪০ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শক্তিশালী শটও অসাধারণ সেভে ফিরিয়ে দেন নিল্যান্ড। অন্য প্রান্তে ওডেগার্ডের নিচের কর্নার লক্ষ্য করা শট দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন আলিসন। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে দুই দলই পরিবর্তন আনে। ৫৮ মিনিটে কুনিয়ার বদলে মাঠে নামেন এনদ্রিক। মাত্র দুই মিনিট পর ভিনিসিয়ুসের দারুণ পাস থেকে একা গোলরক্ষককে পেয়েও সুযোগ নষ্ট করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ৬২ মিনিটে রায়ানের জোরালো শটও দারুণভাবে রুখে দেন নিল্যান্ড।
হাইড্রেশন বিরতির আগে রায়ান ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জায়গায় মাঠে নামেন নেইমার ও দানিলো। তবে ম্যাচের গতি বদলে দেয় নরওয়েই।
৭৯ মিনিটে বদলি উইঙ্গার আন্দ্রেয়াসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আর্লিং হালান্ড। এবারের বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ষষ্ঠ গোল।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। কিন্তু নিল্যান্ড যেন অপ্রতিরোধ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। এরপর যোগ করা সময়ের শুরুতে সন্ড্রে শেলদেরুপের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের ভেতর অনমার্কড অবস্থায় বল পেয়ে জোরালো শটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন হালান্ড। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার সপ্তম গোল।
ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে (৯০+১০ মিনিট) পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন নেইমার। তবে সেটি শুধুই ব্যবধান কমানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।
শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। আর হালান্ডের জোড়া গোল, নিল্যান্ডের অবিশ্বাস্য গোলকিপিং এবং নিজেদের সুযোগ নষ্টের হতাশা নিয়ে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো এত তাড়াতাড়ি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে।
Editor PI News