সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচিগামী একটি কার্গো (মালবাহী) বিমান ৫ জন ক্রু সদস্যসহ নিখোঁজ হয়েছে। উড্ডয়নের পর করাচির উপকূলের কাছে পৌঁছানোর সময় বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটিতে নেভিগেশন ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত বিমানটির সন্ধান না মেলায় পাকিস্তান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিমানটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে (১৬:২১ জিএমটি) বিমানটি হঠাৎ দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। এরপরই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর সেটি রাডার থেকেও অদৃশ্য হয়ে যায়।
নিখোঁজ বিমানটি করাচিভিত্তিক বেসরকারি কার্গো এয়ারলাইন কে-টু এয়ারওয়েজ পরিচালনা করছিল। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি মূলত মালবাহী বিমান পরিচালনা করে।
বুধবার এক বিবৃতিতে কে-টু এয়ারওয়েজ বিমানে থাকা পাঁচজন ক্রু সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (পিসিএএ) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা আমাদের সহকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করছি এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।”
এদিকে ফ্লাইট-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪–এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানটির উচ্চতায় অস্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা যায়। এরপর এটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে, যা কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা জরুরি পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে রাজি নয় তদন্তকারীরা।
পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিমানটির ধ্বংসাবশেষ বা ক্রু সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে সর্বশেষ বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা ঘটে ২০২০ সালে। সে সময় পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) একটি যাত্রীবাহী বিমান করাচি বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগে আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ৯৯ আরোহীর মধ্যে ৯৭ জন নিহত হন, বেঁচে যান মাত্র দুজন।
Editor PI News