ওজন কমানোর জন্য বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ওষুধগুলোর একটি হলো ওজেম্পিক (Ozempic)। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহারের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি ব্যবহার করছেন। তবে দ্রুত ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বাইরের পরিবর্তনও অনেকের নজরে আসে। ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পাতলা হওয়া, মুখের মেদ কমে বয়স বেশি দেখানো কিংবা নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার কথা বলছেন অনেক ব্যবহারকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিবর্তনের জন্য ওষুধটিকে এককভাবে দায়ী করা ঠিক নয়। মূল কারণ হলো দ্রুত ওজন কমে যাওয়া। ক্ষুধা কমে যাওয়ায় অনেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় কম খাবার খান। এতে শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি বমিভাব বা অস্বস্তির কারণে অনেকের পানি পানও কমে যায়, ফলে ত্বক আরও শুষ্ক ও প্রাণহীন দেখাতে পারে।

দ্রুত ওজন কমলে মুখের নিচের চর্বির স্তর কমে যায়। একই সঙ্গে কোলাজেন ও ইলাস্টিনের পরিমাণও কমতে থাকে, যা ত্বককে টানটান রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে গাল বসে যাওয়া, ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়া এবং বলিরেখা স্পষ্ট হওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকেই অনেকেই ‘ওজেম্পিক ফেস’ নামে চিহ্নিত করেন। শুধু মুখেই নয়, ঘাড় বা শরীরের অন্যান্য অংশেও ত্বক কিছুটা ঝুলে যেতে পারে।
এ ছাড়া কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণ, চুল পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, ত্বকের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নখ ভঙ্গুর হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিবর্তন হবে—এমন নয়। ব্যক্তিভেদে শরীরের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধীরে ধীরে ওজন কমানো গেলে এসব পরিবর্তনের ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব। সপ্তাহে প্রায় আধা থেকে এক কেজি ওজন কমাকে তুলনামূলক নিরাপদ ধরা হয়। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বক বা চুলে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ অনেক সময় পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: ইয়াহু নিউজ
Editor PI News