মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা এক মামলায় আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বহিষ্কৃত নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়াকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক নূরে আলম ভূঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফজলুল রহমান। তিনি জানান, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন— সাইফুল ইসলাম, তুহিন মুন্সী, নবীর হোসেন শিকদার, জয়গোপাল সরকার, পাভেল রহমান, শহিদুল হক ভূঁইয়া, রশিদুল হক ভূঁইয়া এবং মেরাজুল হক ভূঁইয়া শিপলু।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হন গেণ্ডারিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়া। পরে র্যাব-৩ পুরান ঢাকার লালমোহন সাহা স্ট্রিটে অবস্থিত তাদের ‘মমতাজ ভিলা’য় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি সিন্দুক থেকে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ সম্পদও জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় র্যাব-৩-এর নায়েব সুবেদার রমজান আলী ওয়ারী থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৮ আগস্ট এনামুল হক এনু, রুপন ভূঁইয়াসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। পরে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, এনামুল হক এনু ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের শেয়ারহোল্ডার এবং গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তার ভাই রুপন ভূঁইয়া ছিলেন একই থানার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের আরেক মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর তৎকালীন বিচারক মাসুদ পারভেজ এনু ও রুপনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন। ওই মামলায় তাদের ৩৪ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল।
Editor PI News