শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে তুমুল বিতর্কের পর অবশেষে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেছেন, ‘ফাউল মানে ফাউল’—গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার (বিল্ডআপ) যেকোনো পর্যায়ে ফাউল হলে, সেটি গোল বাতিলের কারণ হতে পারে। তবে স্বাভাবিক শারীরিক সংঘর্ষকে ফাউল হিসেবে ধরা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বর্তমানে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৬৬ বছর বয়সী ইতালিয়ান কিংবদন্তি রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। একসময় টানা ছয়বার (১৯৯৮-২০০৩) আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সংস্থা (আইএফএফএইচএস) কর্তৃক বিশ্বের সেরা রেফারি নির্বাচিত হওয়া কোলিনা বিশ্বকাপ চলাকালে ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেফারিং নিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কের জবাব দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফিফার ওয়েবসাইটে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত রেফারিংয়ের সার্বিক মূল্যায়ন দিতে গিয়ে কোলিনা বলেন, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপরও সামগ্রিকভাবে তারা সন্তুষ্ট।
তিনি বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি ম্যাচ হওয়ার কারণে কিছু বিষয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়াই স্বাভাবিক। তবে যখনই এমন হয়, পরের ম্যাচের জন্য নিজেদের শতভাগ প্রস্তুত করতে রেফারিরা আরও কঠোর পরিশ্রম করেন।’
রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতারও সমালোচনা করেন কোলিনা।
তার ভাষায়, ‘ম্যাচসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সব সময়ই ফুটবলের অংশ থাকবে। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অফিশিয়ালদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমনটি করা হলে তা তাদের ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ দাবি করতে পারবেন না যে ফিফার রেফারিং কারও দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, এমনকি ফিফা সভাপতির দ্বারাও নয়। ম্যাচ অফিশিয়ালরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং সততার সঙ্গেই সিদ্ধান্ত নেন।’
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে বিতর্কিতভাবে বাতিল হওয়া মিসরের গোল প্রসঙ্গে কোলিনা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
তিনি জানান, প্রতিটি গোলের পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ‘অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ’ (এপিপি) অর্থাৎ গোল হওয়ার আগে পুরো আক্রমণ তৈরির প্রক্রিয়া পরীক্ষা করেন। যদি ওই বিল্ডআপে কোনো ফাউল শনাক্ত হয় এবং সেটি গোল হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে, তাহলে ভিএআর মাঠের রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দেন।
কোলিনা বলেন, ‘ফাউলের ঘটনাটি গোলপোস্ট থেকে কত দূরে ঘটেছে বা কতক্ষণ আগে ঘটেছে—এটির কোনো নির্দিষ্ট সময় বা দূরত্বের সীমা নেই।’
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘মিসরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারওয়ান আত্তিয়া স্পষ্টভাবেই আর্জেন্টিনার ৬ নম্বর জার্সিধারী লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে পা দিয়েছিলেন। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—ফাউল মানে ফাউল। মাঠের রেফারি সেটি দেখতে না পেলেও, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) এমন ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন।’
একই ম্যাচের শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টির দাবি নিয়েও ব্যাখ্যা দেন কোলিনা।
তার মতে, ‘প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পায়ে পা দেওয়া নিশ্চিতভাবেই ফাউল। তবে কোনো ডিফেন্ডার যদি আগে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং এরপর প্রতিপক্ষের সঙ্গে স্বাভাবিক শারীরিক সংঘর্ষ হয়, তাহলে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না।’
তিনি জানান, সালাহ ও আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষকে রেফারি ও ভিএআর স্বাভাবিক শারীরিক লড়াই হিসেবেই বিবেচনা করেছেন।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে কোলিনা বলেন, কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার সুযোগ সব সময়ই থাকবে। তবে পুরো টুর্নামেন্টে রেফারিংয়ের নিয়ম যেভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, তাতে ফিফা সন্তুষ্ট।
Editor PI News