বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সিতেশ রঞ্জন দেব। একসময় পেশাদার শিকারি হলেও ১৯৯১ সালে একটি ভালুকের আক্রমণে গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি শিকার ছেড়ে জীবন উৎসর্গ করেন আহত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং পুনর্বাসনের কাজে।
বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং পর্যটকদের কাছে ‘সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা’র জন্য সুপরিচিত সিতেশ রঞ্জন দেব আর নেই। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
তার আকস্মিক প্রয়াণে দেশ হারালো একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রকৃতিপ্রেমী, মানবিক ব্যক্তিত্ব এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের এক অগ্রসৈনিককে। বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় তার নিরলস প্রচেষ্টা, অসীম মমত্ববোধ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী এবং সমগ্র শ্রীমঙ্গলবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
সিতেশ রঞ্জন দেবের জীবনের মোড় ঘুরে যায় ১৯৯১ সালে। একটি বুনো ভালুকের আক্রমণে তিনি মুখমণ্ডলের একটি অংশ ও একটি চোখ হারান। সেই ঘটনার পর শিকার ছেড়ে আহত, অসুস্থ ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধারে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেন।
পরবর্তীতে তিনি শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, যা পর্যটকদের কাছে ‘সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা’ নামে পরিচিতি পায়। সেখানে শতাধিক আহত ও উদ্ধার করা বন্যপ্রাণীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলেন এবং হাজারো প্রাণীকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর প্রাকৃতিক আবাসে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
দেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, অবৈধ শিকার ও পাচারবিরোধী সচেতনতা এবং পরিবেশ রক্ষায় তার অবদান বাংলাদেশের সংরক্ষণ আন্দোলনের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Editor PI News