বিশ্বকাপের শুরু থেকেই হট ফেভারিট হিসেবে আলোচনায় ছিল ফ্রান্স ও স্পেন। তবে সেমিফাইনালের মহারণে সব হিসাব পাল্টে দিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ডালাসে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলেদের একপ্রকার নিষ্ক্রিয় করে ২-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেয় স্পেন। এই জয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। শেষবার ২০১০ সালে ফাইনালে উঠে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল স্প্যানিশরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। ২০ মিনিটে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় তারা। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি মিকেল ওইয়ারসাবাল। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি স্পেন। অন্যদিকে ফ্রান্সও তেমন কোনো কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দিদিয়ে দেশোঁর দল।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্প্যানিশদের হাতেই। ৫৮ মিনিটে পেদ্রো পোরোর দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এরপর এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলা চেষ্টা করেও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ও ডিফেন্ডারদের দৃঢ় রক্ষণ ভাঙতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্পেন। এই জয়ে টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর কৃতিত্বও ধরে রাখল তারা। এর আগে ২০২৪ ইউরো এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও ফরাসিদের বিদায় করেছিল স্প্যানিশরা। এবার তাদের সামনে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি।
টুর্নামেন্টের প্রথম কয়েক ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্সে প্রশ্ন উঠেছিল—এই দুর্বার ফ্রান্সকে থামাবে কে? সেই প্রশ্নের জবাব দিল স্পেন। গোছানো, শৃঙ্খলিত ও পরিণত ফুটবলে এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের পুরোপুরি নিষ্প্রভ করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। সেই সঙ্গে আরেকটি পুরোনো ধারাও অটুট থাকল—ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল এবারও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারল না।
Editor PI News