যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই দেশের জন্য একটি ১০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। একই সঙ্গে তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা, শিল্পায়ন পুনরুজ্জীবন এবং রাস্তায় গৃহহীন মানুষের রাতযাপন (রাফ স্লিপিং) বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সোমবার সকালে স্ত্রী মারি-ফ্রান্স ভ্যান হিলকে সঙ্গে নিয়ে বাকিংহাম প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বার্নহ্যাম। এরপর কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছালে সমর্থকদের করতালিতে অভ্যর্থনা পান ৫৬ বছর বয়সী এই লেবার নেতা। দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া প্রথম বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্রিটেনকে আবারও স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি বলেন, "বিশ্বকে দেখাতে হবে যে ব্রিটেন আবারও স্থিতিশীলতা ফিরে পেতে সক্ষম।" এ লক্ষ্যেই একটি নতুন রাজনৈতিক মডেল এবং নতুন অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
বার্নহ্যাম জানান, শিগগিরই তিনি "ব্রিটেনের জন্য নতুন ১০ বছরের পরিকল্পনা" উপস্থাপন করবেন। যদিও এ পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম নির্দেশগুলোর একটি হবে রাস্তায় গৃহহীন মানুষের রাতযাপন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালে তিনি একই ধরনের কর্মসূচি চালু করেছিলেন।
এ ছাড়া সরকারি ক্রয়নীতির মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং সরকারি আবাসন নির্মাণ বাড়ানোরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে বার্নহ্যাম জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম ফোনকল যাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে। জেলেনস্কিকে তিনি ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দেবেন বলেও জানান।
এর আগে বিদায়ী বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, তার নেতৃত্বে ব্রিটেন আরও শক্তিশালী ও ন্যায়সংগত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, দুই বছর আগের তুলনায় আজ ব্রিটেন আরও শক্তিশালী এবং আরও ন্যায়সংগত।" একই সঙ্গে তিনি সরকারের অর্জন নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বার্নহ্যামের সামনে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারের ঋণ ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক কল্যাণ ব্যয়ের চাপ এবং ছোট নৌকায় অনিয়মিত অভিবাসীদের আগমন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ইস্যুই অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির বাজারের অস্থিরতা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের অনিশ্চয়তাও নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরে 'কিং অব দ্য নর্থ' নামে পরিচিত। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্বে আসেন। দলটির অনেক এমপির মতে, নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের উত্থান মোকাবিলায় বার্নহ্যামই সবচেয়ে কার্যকর নেতা হতে পারেন।
২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য থাকা বার্নহ্যাম টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারে মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে ঘোষিত সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা।
এদিকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে বার্নহ্যামকে বার্লিন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
Editor PI News