সব আলোচনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।
পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।”
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অবস্থানরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ শুক্রবার দুপুরে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দেবেন এবং সে ক্ষেত্রে তিনিই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
গত কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছিল, তিনি পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন এবং বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
Editor PI News