আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাবে ইরানে ব্যাপক হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
এদিকে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার মিশরেও পৌঁছেছে। ভূমধ্যসাগর উপকূলে দেশটির দামিয়েত্তা বন্দরের কাছে মার্কিন মালিকানাধীন একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি ট্যাংকারেও হামলার দাবি করেছে তারা।
ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, দেশটির কয়েকটি প্রদেশে তাদের ঘাঁটিতে হামলায় অন্তত ২০ সদস্য নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইয়েমেনেও উত্তেজনা বাড়ছে। হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যদিও পাকিস্তান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
Editor PI News