একসময় মিনিমালিজম মানেই ছিল সাদা দেয়াল, ফাঁকা ঘর আর এক ধরনের শীতল পরিবেশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই ধারণা। এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ওয়ার্ম মিনিমালিজম’, যেখানে সরলতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উষ্ণতা, আরাম ও ব্যবহারিক সৌন্দর্য।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই পরিবর্তনের জন্য দামি আসবাব কেনার প্রয়োজন নেই। ঘরের বর্তমান আসবাব ও কয়েকটি ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই বসার ঘরে আনা যায় আধুনিক, নান্দনিক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ।
ওয়ার্ম মিনিমালিজম হলো প্রথাগত মিনিমালিজমের সরলতা এবং আরামদায়ক আবহের সমন্বয়। এখানে ঘর অপ্রয়োজনীয় জিনিসে ভরে ফেলা হয় না, আবার একেবারে ফাঁকা বা প্রাণহীনও রাখা হয় না।
[caption id="attachment_20804" align="alignnone" width="1672"]
ওয়ার্ম মিনিমালিজমে সাজানো আধুনিক ও প্রশান্তিময় বসার ঘর[/caption]
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারার মূল লক্ষ্য এমন একটি বসার ঘর তৈরি করা, যেখানে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি থাকবে মানুষের উপস্থিতির উষ্ণ অনুভূতি।
ওয়ার্ম মিনিমালিজমে রঙের ব্যবহার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দেয়াল, সোফার কভার কিংবা পর্দায় সাদা বা কালোর পরিবর্তে বেছে নিতে পারেন—
পুরো ঘর রং করা সম্ভব না হলে একটি দেয়ালে বেইজ বা মাটির রঙের টেক্সচারযুক্ত ওয়ালপেপার ব্যবহার করলেও পরিবেশ বদলে যাবে।
একঘেয়েমি দূর করতে টেক্সচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এগুলো কম খরচে ঘরের সৌন্দর্য অনেক বাড়িয়ে দেয়।
ওয়ার্ম মিনিমালিজমে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।
বসার ঘরে রাখতে পারেন—
প্লাস্টিকের বদলে এসব উপকরণ ঘরে প্রাকৃতিক ও অভিজাত অনুভূতি এনে দেয়।
তীব্র সাদা আলোর পরিবর্তে ব্যবহার করুন ওয়ার্ম এলইডি লাইট।
লিনেন বা কাগজের ল্যাম্পশেড ব্যবহার করলে আলো আরও নরম ও আরামদায়ক দেখায়। এতে সন্ধ্যার পর ঘরে একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
ওয়ার্ম মিনিমালিজমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রাখা।
দেয়ালে অনেক ছোট ছবি না ঝুলিয়ে একটি বড় ক্যানভাস বা সাধারণ শিল্পকর্ম ব্যবহার করুন। পাশাপাশি ঘরের এক কোণে একটি বা দুটি ইনডোর প্ল্যান্ট রাখলে পুরো পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দর ঘর গড়তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রুচি, পরিচ্ছন্নতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ সাজসজ্জা; ব্যয়বহুল আসবাব নয়।
ছবি: এআই জেনারেটেড
Editor PI News