১১০টি দেশের আইফোন ব্যবহারকারীদের নতুন করে স্পাইওয়্যার সতর্কতা পাঠিয়েছে অ্যাপল। ১৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটের কয়েকজন ব্যবহারকারী ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ একটি নোটিফিকেশন পাওয়ার কথা জানান। সতর্কবার্তাটি সত্যি কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পরে অ্যাপল নিশ্চিত করে, এটি তাদেরই পাঠানো আসল সতর্কতা।
অ্যাপল এর আগেও একাধিকবার স্পাইওয়্যার হামলার বিষয়ে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেছে। তবে সময়ের সঙ্গে এসব নোটিফিকেশনের ধরন বদলানোয় নতুন বার্তাটি সত্যিই অ্যাপলের কাছ থেকে এসেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
ফোর্বসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যবহারকারীদের সরাসরি আইফোনে এবং অ্যাপল থ্রেট নোটিফিকেশনস থেকে পাঠানো ইমেইলের মাধ্যমে সতর্ক করছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাপলের নির্দিষ্ট ইমেইল ঠিকানাটিও এসব নোটিফিকেশনের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে অ্যাপল জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর ডিভাইসের মডেল ও সফটওয়্যার সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে সতর্কবার্তার ধরন ভিন্ন হতে পারে।
অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, থ্রেট নোটিফিকেশন এমন ব্যবহারকারীদের জানানো ও সহায়তা করার জন্য তৈরি, যাদের পরিচয় বা কাজের কারণে ভাড়াটে স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এ ধরনের স্পাইওয়্যার হামলায় বিপুল অর্থ ব্যয় হয় এবং এসব হামলার কার্যকারিতার মেয়াদ প্রায়ই খুব কম থাকে। ফলে এগুলো শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা কঠিন।
তবে অ্যাপল একই সঙ্গে জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক সাধারণ ব্যবহারকারী কখনো এ ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হন না।
কোনো ব্যবহারকারীকে ভাড়াটে স্পাইওয়্যার হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে শনাক্ত করার পরই সাধারণত এসব থ্রেট নোটিফিকেশন পাঠানো হয়। তাই এমন সতর্কবার্তা পেলে সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছে অ্যাপল।
অ্যাপল ২০২১ সাল থেকে বছরে একাধিকবার এ ধরনের থ্রেট নোটিফিকেশন পাঠিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৫০টির বেশি দেশের ব্যবহারকারীদের এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
স্পাইওয়্যারের মধ্যে এনএসও গ্রুপের পেগাসাস অন্যতম আলোচিত। সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগজির পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এই ম্যালওয়্যার ব্যবহারের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
সাধারণত এ ধরনের স্পাইওয়্যার ‘জিরো-ক্লিক অ্যাটাক’-এর মাধ্যমে আইফোনে প্রবেশ করতে পারে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীকে কোনো লিংকে ক্লিক করা বা কোনো বিশেষ কাজ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
আইফোনে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করলে ঝুঁকি গুরুতর হতে পারে। হামলাকারী ব্যবহারকারী কী করছেন, কী বলছেন বা কী শুনছেন—এসবের অনেক কিছুই নজরদারি করতে পারেন। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ থেকেও তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে ১১০টি দেশে সতর্কতা পাঠানোর বিষয়টি উদ্বেগজনক মনে হলেও সাধারণ আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি সরাসরি বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত নয় বলে মনে করেন জ্যামফের জ্যেষ্ঠ এন্টারপ্রাইজ কৌশল ব্যবস্থাপক অ্যাডাম বয়ন্টন।
তার মতে, ভাড়াটে স্পাইওয়্যার মূলত নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক প্রযুক্তি। মানুষের পরিচয়, তারা কী জানেন এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করেন—এসব বিবেচনায় তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
বয়ন্টন সতর্ক করে বলেন, স্পাইওয়্যারের লক্ষ্য এখন শুধু সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ধীরে ধীরে নির্বাহী, আলোচক এবং বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত তথ্য বা ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার থাকা ব্যক্তিরাও লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন।
কর্মক্ষেত্রে ব্যবহৃত কোনো ডিভাইসে এমন নোটিফিকেশন এলে সেটিকে প্রথম মুহূর্ত থেকেই নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তার মতে, আক্রান্ত সন্দেহে ডিভাইসটি মুছে ফেলা উচিত নয়। বরং সেটি সংরক্ষণ করে লকডাউন মোড চালু করতে হবে এবং বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিতে হবে।
আইফোনে স্পাইওয়্যার হামলা ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো আগে থেকেই সতর্ক থাকা। কেউ যদি মনে করেন, তিনি এ ধরনের হামলার লক্ষ্য হতে পারেন, তাহলে আইফোনে লকডাউন মোড চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অ্যাপল আইওএসের নতুন আপডেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তা ইনস্টল করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ পুরোনো সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটিকে কাজে লাগিয়েই অনেক সময় হামলাকারীরা ডিভাইসে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে।
কেউ যদি মনে করেন তার আইফোন স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্য হয়েছে, তাহলে ডিভাইসটি একবার বন্ধ করে আবার চালু করলেও কখনো কখনো হামলার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তবে এতে স্পাইওয়্যার পুরোপুরি মুছে যায় না।
ডিভাইসে স্পাইওয়্যার থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হলে অ্যাপলের পরামর্শ অনুযায়ী সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা হলো আক্রান্ত ডিভাইসটি আর ব্যবহার না করা এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ সহায়তা নেওয়া।
Editor PI News