বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্টদের প্রত্যর্পণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘প্রত্যর্পণের বিষয়টি মূলত একটি আইনি বিষয়। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইনগত দিক রয়েছে।’
ভারত এর আগেও একই অবস্থান জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয়গুলো বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততার মূল লক্ষ্য হলো একটি গঠনমূলক, ভবিষ্যৎমুখী ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা।’ এই দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর হবে। তবে সফরের তারিখ নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো, পানি বণ্টন ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে।
গত ৩ অক্টোবর দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যেসব বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে, সেগুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে।
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তিনি সম্প্রতি বলেন, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান নেন।
Editor PI News