মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। এতে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
১. দ্রুত হাঁটা
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহজ ও কার্যকর ব্যায়ামগুলোর মধ্যে দ্রুত হাঁটা অন্যতম। এ জন্য জিমে যাওয়া বা বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে পাঁচ দিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করা যেতে পারে।
নিয়মিত হাঁটলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘদিন ব্যায়াম না করলে শুরুতেই ৩০ মিনিট হাঁটার চাপ নেওয়া উচিত নয়। অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়ানো ভালো।
২. শক্তিবর্ধক ব্যায়াম
শুধু হাঁটলেই শরীরের সব পেশির যথাযথ ব্যায়াম হয় না। তাই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ জন্য ভারী ওজন তোলার প্রয়োজন নেই। নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী হালকা ওজন, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড কিংবা শরীরের নিজস্ব ওজন ব্যবহার করেও ব্যায়াম করা যায়।
বিশেষ করে নারীদের রজোনিবৃত্তির পর পেশি ও হাড়ের ক্ষয় বাড়তে পারে। এ সময় শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশির সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়ক। পাশাপাশি শরীরের ওজন ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও এর ভূমিকা রয়েছে।
৩. যোগাসন
শরীরের নমনীয়তা ও ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতেও যোগাসন সহায়ক হতে পারে। কিছু গবেষণায় নিয়মিত যোগাসনের সঙ্গে রক্তচাপ সামান্য কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে যোগাসনকে হাঁটা বা অন্যান্য শারীরিক ব্যায়ামের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং হাঁটার পাশাপাশি যোগাসন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করলে শরীরচর্চার রুটিনে বৈচিত্র্য আসে। সকালে অথবা ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ যোগাসন করা যেতে পারে।
কোন ব্যায়ামের সমন্বয় বেশি উপকারী?
হাঁটা, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগাসনের মধ্যে একটিকে সবার জন্য সবচেয়ে কার্যকর বলা যায় না। বরং শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী তিন ধরনের ব্যায়ামের সমন্বয় করা যেতে পারে। সপ্তাহে পাঁচ দিন দ্রুত হাঁটা, অন্তত দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং নিয়মিত যোগাসন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু ব্যায়াম করলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। এ জন্য রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা, খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, ধূমপান পরিহার এবং অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের মতো সমস্যার চিকিৎসা করানোও জরুরি।
বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: আনন্দবাজার
Editor PI News