ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন জানান, কিছুক্ষণ আগেই তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। প্রায় এক বছর আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো দিক থেকেই এনসিপির মিত্র হওয়ার উপযুক্ত নয়। দলটির সঙ্গে জোট করলে এনসিপিকে এর জন্য বড় রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলে তিনি তখন সতর্ক করেছিলেন।
সামান্তা শারমিন আরও জানান, গত ১১ মাসে দলের অতীত কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ, প্রস্তাব এবং আলোচনা করেছেন। দলের সিদ্ধান্ত ও নীতির সঙ্গে মতবিরোধ থাকলে তা গণতান্ত্রিক উপায়ে তুলে ধরাকেই নিজের রাজনৈতিক দায়িত্ব মনে করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, দলের প্রাথমিক মূল্যবোধের প্রতি এনসিপি আর আন্তরিক থাকতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না। এ কারণে প্রায় এক বছরের মতাদর্শিক লড়াইয়ের ইতি টেনে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে সামান্তা শারমিনকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। নতুন কমিটিতে তার পদাবনতি হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সামান্তা আরও লেখেন, এনসিপি ভবিষ্যতে জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগের মতো কোনো সিদ্ধান্ত নিলেও পুরোনো রাজনৈতিক ধারার বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না।
তার মতে, পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার দলগুলো রাষ্ট্রে নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক না হয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। দলের ভেতরে এতদিন ধরে চলা মতপার্থক্য ও আলোচনার বিষয়গুলো এখন দলের সদস্য এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
Editor PI News