
প্রায় তিন দশক পর চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ বাতিল করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২৩ জুন সকালে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের পূর্ববর্তী আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ বাতিল করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর দেহাবশেষ উত্তোলন করে কার্যকর কোনো আলামত পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন করলে ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতার সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে মামলার বাদী এবং সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকেও আপত্তি জানানো হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত এবং এ কাজে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে আদালত কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলেন।
তবে সর্বশেষ আবেদনের পর আদালত পূর্বের সেই আদেশ বাতিল করেছেন। ফলে আপাতত সালমান শাহর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া আর এগোচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি বাসা থেকে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা, বিতর্ক ও তদন্ত চললেও ঘটনাটি এখনো জনমনে ব্যাপক আগ্রহের বিষয় হয়ে রয়েছে।


