প্রতারণা মামলায় বিদিশা সিদ্দিক গ্রেপ্তার

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা একটি প্রতারণা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুলশান থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। মামলার বিচার শেষে আদালত বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। এ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল।

এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে করা ওই মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ রায় দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

যে অভিযোগে মামলা

বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা সিদ্দিক মোশাররফ হোসেনকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখিয়ে সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয় এবং উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পরও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বিদিশা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। তবে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

মামলার বাদীর অভিযোগ, বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা বা ফ্ল্যাট—কোনোটিই ফেরত দেননি। এমনকি তাঁকে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ