
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে বৃহস্পতিবার একযোগে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। তবে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।
পরীক্ষা শুরুর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারই প্রথম পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের দেহে ধারণযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নকল প্রতিরোধে দেশের সব পরীক্ষাকেন্দ্রে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কক্ষও গঠন করেছে। এখান থেকে দেশের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে, যাতে ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও নির্ভুল হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানান, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী। যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। চার হাজার ৮৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এক হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক (ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এক লাখ সাত হাজার ৯৬৪ জন। এক হাজার ৮৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশে মোট পরীক্ষাকেন্দ্র দুই হাজার ৬৯৭টি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি।
সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক (ভোকেশনাল) তাত্ত্বিক পরীক্ষা ২৫ জুলাই, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি তাত্ত্বিক পরীক্ষা ১ আগস্ট এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা ২২ জুলাই শেষ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের পরিবর্তে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।


