বুনুর বীরত্ব ম্লান করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স, মরক্কোকে হারাল ২-০ গোলে

মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর অসাধারণ সব সেভ এক সময় বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্সকে হতাশ করে তুলেছিল। এমনকি কিলিয়ান এমবাপ্পের নেওয়া পেনাল্টিও ঠেকিয়ে দেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের দুটি গোলে শেষ পর্যন্ত মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচটি। এটি ছিল টুর্নামেন্টের ৯২তম ম্যাচ। এই জয়ের মাধ্যমে ফ্রান্স টানা তৃতীয়বার এবং ইতিহাসে অষ্টমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল।

শুরুর বাঁশি বাজতেই বোঝা যায়, মরক্কোর রক্ষণভাগে ঝড় তুলতে মাঠে নেমেছে ফ্রান্স। একের পর এক আক্রমণে আফ্রিকার দলটিকে চাপে ফেলে দেয় দিদিয়ে দেশমের শিষ্যরা। তবে ফরাসি আক্রমণের সামনে একাই প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। তাঁর একের পর এক দুর্দান্ত সেভেই ম্যাচে টিকে ছিল মরক্কো।

শুরুতে তিন ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণ সাজালেও ফ্রান্সের তীব্র চাপের মুখে তা দ্রুতই পাঁচজনের রক্ষণে পরিণত হয়। মরক্কো বল পেলেই হাই-প্রেসিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফরাসিরা। প্রথম ২০ মিনিটে বলের দখল, গতি ও আক্রমণের ধার—সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি।

ম্যাচের ২৬তম মিনিটে বক্সের ভেতরে এমবাপ্পেকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে ২৮তম মিনিটে স্পট কিক থেকে এমবাপ্পের নেওয়া শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বুনু। সেই সেভে গ্যালারিজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে মরক্কোর সমর্থকদের মধ্যে।

পেনাল্টি মিসের পরও আক্রমণের তীব্রতা কমায়নি ফ্রান্স। কখনো ঝাঁপিয়ে, কখনো মুষ্টিবদ্ধ হাতে, আবার কখনো নিখুঁত পজিশনিংয়ে বুনু ফরাসিদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দেন। প্রথমার্ধে ফ্রান্স ১৩টি শট নিলেও গোলের দেখা পায়নি। অন্যদিকে মরক্কোও ফরাসি রক্ষণে তেমন কোনো বড় হুমকি তৈরি করতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মরক্কোর রক্ষণে ফাটল ধরায় ফ্রান্স। ৬০তম মিনিটে দেজিরে দোয়ের বাড়ানো পাস থেকে বক্সের কিনারা থেকে দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ ভুলিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আটে নিয়ে গিয়ে লিওনেল মেসির সমান গোল করেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২০-এ।

মরক্কো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করার আগেই আসে দ্বিতীয় ধাক্কা। ৬৬তম মিনিটে এমবাপ্পের তৈরি করে দেওয়া ফাঁকা জায়গার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে।

দুই গোল হজমের পর মরক্কো মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে। ৮৩তম মিনিটে জাকারিয়ার অন টার্গেট শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ। পরের মিনিটেই আশরাফ হাকিমির ক্রস থেকে এল আয়নাউইয়ের হেড সাইড নেটিংয়ে জড়ালে গোলের আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কমাতে পারেনি মরক্কো।

শেষ কয়েক মিনিটে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফ্রান্স। একই সঙ্গে ভেঙে যায় মরক্কোর টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ