সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর চৌধুরী)-কে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের দিন সকালে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এস কে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে আদালতে আনা হয় এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে পৌনে ১১টার দিকে এজলাসে তোলা হলে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, এস কে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে তদন্ত চলাকালে তার এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ দাখিলের জন্য নোটিশ দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ ও নির্ধারিত ফরম গ্রহণ করলেও আইন অনুযায়ী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তা জমা দেননি।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন। ৬ নভেম্বর আদালত এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ১৫ জুলাই রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। বিচার চলাকালে আদালত সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসার পর ২০২২ সালে এস কে সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। একই বছরের মার্চে তাকে দুদকে তলব করা হয়। তিনি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ