
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। নতুন বেতন কাঠামোতে কার বেতন কত বাড়বে, কবে থেকে তা কার্যকর হবে—এসব প্রশ্নের পাশাপাশি আগের পে স্কেলগুলোতে কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হয়েছিল, তা নিয়েও বাড়ছে আগ্রহ। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আটবার জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর প্রতি বছর ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন পে স্কেল আর ঘোষণা হয়নি।
স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয় ১৯৭৩ সালে। সে সময় সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ছিল ২ হাজার টাকা। ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২২৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা করা হয়। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডে প্রায় ৭৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পায়।
১৯৮৫ সালে তৃতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১২২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১০০ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ১৯৯১ সালের চতুর্থ পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৯০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করা হয়। এতে সর্বনিম্ন বেতন ৮০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
১৯৯৭ সালে ঘোষিত পঞ্চম পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ সময় সর্বনিম্ন বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ২০০৫ সালের ষষ্ঠ পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৩ হাজার টাকা করা হয়। এতে সর্বনিম্ন বেতন ৬০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
২০০৯ সালে সপ্তম পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৪ হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ঘোষিত অষ্টম পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১০১ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার টাকা করা হয়।
নবম জাতীয় পে কমিশন ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য পৃথক একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে আইএমএফের ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই এবং অনুমোদন মিললেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে উল্লেখ্য, বর্তমানে আলোচিত ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নবম জাতীয় পে কমিশনের সুপারিশ। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পরই নতুন পে স্কেলের বেতনহার কার্যকর হবে।


