গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় তিন বছর, উদ্ধার হলো ১১২ ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ

ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া গাজার একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় তিন বছর চাপা পড়ে থাকা অন্তত ১১২ জন ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন শিশু রয়েছে। উদ্ধার শেষে তাদের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং একসঙ্গে দাফন করা হয়।

২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর গাজা সিটির সাবরা এলাকার একটি আবাসিক ব্লকে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলায় বেদুইন বংশোদ্ভূত ফিলিস্তিনি গোত্র আল-হাসায়না (আবু শারিয়া নামেও পরিচিত) প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় বৃহত্তর আল-হাসায়না পরিবারের ৩০৮ জন নিহত হন। গভীর রাতে হামলার সময় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দাই ঘুমিয়ে ছিলেন।

“প্রায় তিন বছর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা থাকার পর উদ্ধার হলো ১১২ জনের দেহাবশেষ; নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনই শিশু।”

হামলার পরপরই উদ্ধারকারীরা কিছু মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ১৫৩টি মরদেহ চাপা পড়ে ছিল। সাম্প্রতিক উদ্ধার অভিযানে প্রায় ৪০ সদস্যের একটি দল টানা ১৭ দিন ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অনুসন্ধান চালায়।

দীর্ঘ এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলোর মধ্যে ১১২ জন নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সমান করা স্থানে নিহতদের মরদেহ একত্র করা হয়। সেখানে জানাজা শেষে স্বজন, প্রতিবেশী ও বেঁচে যাওয়া পরিবারের সদস্যরা কাঁধে করে কফিনগুলো গোরস্তানের দিকে নিয়ে যান।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় গণজানাজাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে। কফিনগুলোর সামনের অংশ নিহত নারী, পুরুষ ও শিশুদের ছবি দিয়ে সাজানো ছিল, যা উপস্থিত মানুষের মধ্যে শোকের আবহ আরও গভীর করে তোলে।

“গোটা একটি পরিবার প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। যারা বেঁচে আছেন, তারা স্বজনদের দেহাবশেষ কাঁধে নিয়ে শেষ বিদায় জানিয়েছেন।”

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর বহু ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত সংকটের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকে।

সূত্র: রয়টার্স

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ