‘নরওয়েজিয়ান উড’-এর পর এবার নারীকে কেন্দ্র করে মুরাকামির নতুন উপন্যাস

আধুনিক সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে ‘নরওয়েজিয়ান উড’, ‘কাফকা অন দ্য শোর’ কিংবা ‘১কিউ৮৪’ শুধু উপন্যাস নয়, একেকটি অনুভূতির নাম। নিঃসঙ্গতা, বাস্তবতা ও পরাবাস্তবতার মিশেলে নিজস্ব এক সাহিত্যজগৎ গড়ে তোলা বিশ্বখ্যাত জাপানি ঔপন্যাসিক হারুকি মুরাকামি এবার তিন বছর পর নতুন উপন্যাস নিয়ে ফিরেছেন। নতুন বই প্রকাশের দিনই তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কখনোই তাঁর মতো করে সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারবে না।

শুক্রবার জাপানজুড়ে প্রকাশিত হয়েছে মুরাকামির নতুন উপন্যাস ‘দ্য টেল অব কাহো’। বইটি প্রকাশকে ঘিরে পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। টোকিওর বিভিন্ন বইয়ের দোকানে মধ্যরাত থেকেই বিক্রি শুরু হয় উপন্যাসটি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বই সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান অসংখ্য পাঠক।

জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োদো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুরাকামি বলেন, ‘এআই অতীতের সব তথ্য বিশ্লেষণ করে তুলনা টানে। কিন্তু আমি যেভাবে উপন্যাস লিখি, সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন।’ তাঁর মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতিতে জেনারেটিভ এআই দিয়ে উপন্যাস লেখা সম্ভব হলেও একজন ঔপন্যাসিকের সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা।

মুরাকামি বলেন, একজন ঔপন্যাসিকের কাজ হলো হঠাৎ মনের মধ্যে ঝলসে ওঠা সম্পূর্ণ নতুন কিছু ধরে আনা। গল্প লেখার সময় চরিত্রগুলো যেন নিজ থেকেই তাঁর সামনে এসে দাঁড়ায়। তাঁর ভাষায়, ‘এটি তুলনা বা বিশ্লেষণ থেকে আসে না। সম্ভবত এআইও তা করতে পারবে না।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শিনচোশা জানিয়েছে, ‘দ্য টেল অব কাহো’-তে প্রথমবারের মতো মুরাকামির পূর্ণাঙ্গ কোনো উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন নারী। এ বিষয়ে জাপানি দৈনিক আসাহি শিম্বুন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উপন্যাসটি লিখতে গিয়ে তাঁর মনে হয়েছে, তিনি যেন নিজের নয়, ভিন্ন এক জোড়া চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখছেন।

তিনি বলেন, নারীরা পৃথিবীকে কীভাবে দেখেন, তা তিনি কেবল কল্পনা করতে পারেন। তবে একজন ঔপন্যাসিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যেকোনো চরিত্রের ভেতরে নিজেকে কল্পনা করতে পারা। ‘কাফকা অন দ্য শোর’ লেখার সময় যেমন তিনি ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পৃথিবীকে দেখেছিলেন।

মুরাকামি জানান, নতুন উপন্যাস লেখার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওয়েলেসলি কলেজে কিছু সময় কাটিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, সেখানে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও নারীর দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবেশ এই উপন্যাসের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, আগে বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে লিখতে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। তবে প্রতিটি নতুন উপন্যাসে তিনি এমন কিছু করার চেষ্টা করেন, যা আগে কখনও করেননি। তাঁর মতে, এবার সেই নতুন বিষয়টি ছিল বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ