
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে বঙ্গভবন ও সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন উঠেছে—দায়িত্ব ছাড়ার পর কোথায় থাকবেন দেশের সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বঙ্গভবন ছাড়ার পর রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিন। ইতোমধ্যে সেই প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দায়িত্ব ছাড়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির মনোনীত কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মালামাল গুছিয়ে নেওয়া শুরু করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার বিষয়ে অধস্তন কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সূত্রের দাবি, গুলশানের বাসভবনে ওঠার পর স্বাস্থ্যগত কারণে চিকিৎসা ও বিশ্রামের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে মো. সাহাবুদ্দিনের। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও সরকার বা বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা তিনি বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছিলেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, দায়িত্ব পালনকালে সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন।
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক সংকটের সময় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল।
পদত্যাগপত্রের বড় অংশজুড়ে নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার শরীরে Autonomic Neuropathy শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে মাঝেমধ্যে সাময়িকভাবে অচেতন হয়ে পড়েন। এসব শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় বলেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এদিকে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


