
গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গুমের ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমরা আর সম্পৃক্ত হতে চাই না। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এর প্রকাশ্য বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’
অনুষ্ঠানে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বেদনা ও স্বজন হারানোর কষ্টের কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা যত ক্ষমতাবান বা প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আয়নাঘরের মতো আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের যে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, অহংকার ও দাম্ভিকতা ছিল, তা আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। আমি বিশ্বাস করি, একে একে সবাই আইনের মুখোমুখি হবে এবং জবাবদিহি করতে বাধ্য হবে।’
গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘যদি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের ভাতা দেওয়া যেতে পারে, তাহলে গুম হওয়া পরিবারগুলো কেন বঞ্চিত থাকবে? আমরা আগামী বাজেটে তাদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রাখবো।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, স্বজন হারানোর ক্ষতি কোনোভাবেই অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো, তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, সম্প্রতি গুম হওয়া পরিবারের কয়েকজন সন্তান জাতীয় সংসদ পরিদর্শনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি তাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরাচারী আচরণ বা গুমের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘গুম কিংবা নির্যাতনের মতো মানবিক বিষয় নিয়ে আমরা কোনো দলীয় রাজনীতি করতে চাই না। আমরা বিচার চাই, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে চাই এবং আইনের মাধ্যমে তাদের স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে চাই।’
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদন, দেশীয় মানবাধিকার সংগঠন এবং গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েক শ গুমের অভিযোগ উঠে। সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশন এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০টির বেশি অভিযোগ গ্রহণ করেছে। তবে এসব ঘটনার সবগুলোই আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই বা নিষ্পত্তি হয়নি এবং গুমের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে ভিন্নতা রয়েছে।


