সন্তানকে শাসন করায় প্রধান শিক্ষিকাকে চড় অভিভাবকের

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন এক অভিভাবক। বুধবার দুপুরে জেলা শহরের ফার্মপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত সামসউর রহমান শুভ ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার মেয়ে বিদ্যালয়টির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সমাবেশ চলাকালে সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলায় ওই শিক্ষার্থীকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় তাকে একটি চড়ও দেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে শুভ বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষিকাকে চড় মারেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে অফিসকক্ষে বসে কথা বলার সময় হঠাৎ করেই প্রধান শিক্ষিকাকে চড় দেন শুভ। পরে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষিকা তাকে কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত শুভর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী বলেন, ‘মেয়ের গায়ে হাত তোলার কারণে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে যায় আমার স্বামী। কথা বলার একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আমার স্বামী ও ওই শিক্ষক হাতাহাতি করেন।’ তিনি আরও দাবি, তার মেয়ে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষিকা তাকে মারধর করেছেন। এ কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।

লাঞ্ছনার শিকার প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীকে আলতো করে একটা চড় মেরেছিলাম। কিন্তু এজন্য একজন অভিভাবক অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন, এটা তো চিন্তার বাইরে। এখন বিদ্যালয়ে যেতে নিরাপত্তাহীন বোধ করছি। আমি এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সোয়াইব হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে আমরা আশা করি না। অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় শিক্ষক সমিতি কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার ওপর হামলার বিষয়টি তারা জেনেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ