জামায়াত ফেরেশতাদের সংগঠন নয়, গুরুতর অপরাধে ছাড় নেই: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের সংগঠন নয়, মানুষের সংগঠন। তাই ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। তবে গুরুতর অন্যায় বা অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার ষান্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদেরও ভুল, দোষ ও অপরাধ হতে পারে। কেউ যদি আমাদের কোনো অন্যায় দেখেন, তা ধরিয়ে দিন। আমরা সংশোধনের চেষ্টা করব।”

তিনি আরও বলেন, “আপনার গায়ে যদি সাদা কাপড় থাকে, তাহলে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। খুব সতর্ক থাকতে হবে। নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীতে কোনো ছাড় নেই।”

জামায়াত আমির জানান, সহনীয় মাত্রার কোনো বিচ্যুতি হলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং দায়িত্বে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে। তবে অপরাধের মাত্রা গুরুতর হলে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গণভোটের প্রসঙ্গ

গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, পরিবর্তনের জন্য গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সরকার তা পাশ কাটিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো দেশ পরিচালনা করছে। একই নির্বাচনের একটি রায় গ্রহণ করে অন্যটি প্রত্যাখ্যান করাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অতীতের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে মন্তব্য

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের লগি-বৈঠার ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির গণহত্যার রাজনীতি শুরু হয়। এরপর পিলখানা হত্যাকাণ্ড, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতা, হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ একই ধারাবাহিকতার অংশ বলে তিনি দাবি করেন।

জামায়াত নিষিদ্ধ হওয়ার আগেই দলটি ছাত্র আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরে দল নিষিদ্ধ হলে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানানো হয়েছিল বলে জানান।

আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারের আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেশী দেশ নিয়ে মন্তব্য

প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। একইভাবে অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। সীমান্তে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তার প্রভাব উভয় দেশকেই বহন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন—এটাই জামায়াতের বিশ্বাস। নেতা ও নীতির সংশোধনের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্মেলনে ঢাকা জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মো. মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ