
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে চাকরির বাজারে প্রবেশের আগেই পেশাদার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে লিংকডইন। তবে অনেক শিক্ষার্থীর ধারণা, কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে ভালো প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব নয়। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টার্নশিপ বা এন্ট্রি-লেভেল চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারা শুধু অভিজ্ঞতা নয়, বরং একজন প্রার্থীর শেখার আগ্রহ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, একাডেমিক অর্জন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততাকেও গুরুত্ব দেন।
একটি আকর্ষণীয় লিংকডইন প্রোফাইল তৈরির প্রথম ধাপ হলো পেশাদার ছবি ও ব্যানার ব্যবহার করা। পরিষ্কার ব্যাকগ্রাউন্ডে ভালো আলোয় তোলা একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি এবং নিজের আগ্রহ বা বিষয়ভিত্তিক একটি ব্যানার প্রোফাইলকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
এরপর নজর দিতে হবে প্রোফাইলের হেডলাইনে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ না করে নিজের বিষয়, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরলে নিয়োগকর্তার কাছে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
‘About’ সেকশনে নিজের গল্প বলাও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে শিক্ষাজীবনের আগ্রহ, উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট, ক্লাব কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা যেতে পারে।
অভিজ্ঞতার জায়গায় ক্যাম্পাস ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী কাজ, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা, ডিবেট, রক্তদান কর্মসূচি কিংবা বিভিন্ন ইভেন্টে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা যুক্ত করা উচিত। শুধু দায়িত্ব নয়, কী অর্জন হয়েছে সেটিও উল্লেখ করলে প্রোফাইল আরও শক্তিশালী হয়।
একাডেমিক প্রজেক্ট, গবেষণা, কেস স্টাডি ও ফিল্ডওয়ার্কের তথ্য যোগ করলে দক্ষতার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি ৫ থেকে ১০টি প্রাসঙ্গিক সফট ও হার্ড স্কিল যুক্ত করে শিক্ষক বা সহপাঠীদের মাধ্যমে এনডোর্সমেন্ট নেওয়া প্রোফাইলের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু প্রোফাইল তৈরি করলেই হবে না। নিয়মিত পোস্ট করা, বইয়ের রিভিউ লেখা, নিজের প্রজেক্ট শেয়ার করা এবং পছন্দের খাতের পেশাজীবীদের পোস্টে অর্থবহ মন্তব্য করার মাধ্যমে লিংকডইনে সক্রিয় উপস্থিতি তৈরি করা প্রয়োজন।


