সিলেটে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

সিলেটে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক আবু উবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুল আহমদ চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন (৩০) সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ মে দিনমজুর রাইসুল হকের চার বছরের মেয়ে ফাহিমা নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর, ৮ মে স্থানীয় একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকেই তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

ঘটনার এক মাস পাঁচ দিন পর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানায়, জাকির প্রথমে শিশুটির মরদেহ ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ডোবার পাশেই রেখে চলে যান। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের তৎকালীন উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দেওয়ার পর অভিযুক্ত জাকির নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়ার কথা সে সময় জানিয়েছিল পুলিশ। রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুল আহমদ চৌধুরী বলেন, অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় জাকিরের দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ