
থাইল্যান্ডের ননথাবুরি প্রদেশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শুক্রবার সকালে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় পাঁচ শিক্ষকসহ আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন, যাদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টার দিকে ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ননথাবুরি স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ছিল বিদ্যালয়টির অষ্টম শ্রেণির (মাথায়োম-২) এক শিক্ষার্থী। পরে তাকে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে।

হামলার পর পুলিশ শিক্ষার্থীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার ৭৩ বছর বয়সী দাদা এবং ৭৪ বছর বয়সী দাদির মরদেহ উদ্ধার করে। তাদের মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, স্কুলে হামলার আগে তাদের হত্যা করা হয়।
“নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিক্ষক, হামলাকারী শিক্ষার্থী এবং তার দাদা-দাদি রয়েছেন। আহতদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা গুরুতর।”
পুলিশের তথ্যমতে, হামলাকারী একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল ব্যবহার করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অন্তত ২৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে আরও ৩৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
হামলার সময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ পুরো ক্যাম্পাস ঘিরে ফেলে এবং সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থলের আশপাশ এড়িয়ে চলার এবং সামাজিক মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
বর্তমানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন। ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র পরীক্ষা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হামলার উদ্দেশ্য ও পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ডে বন্দুক হামলা
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই জেলার একটি স্কুলে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বন্দুক হামলায় কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহত হন। পরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মারা যান এবং হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে নং বুয়া লাম ফু প্রদেশের একটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সাবেক এক পুলিশ সদস্যের বন্দুক ও ছুরি হামলায় ২২ শিশুসহ মোট ৩৭ জন নিহত হন। ঘটনাটি থাইল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত।
সূত্র: ব্যাংকক পোস্ট

