বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬

বিপুর স্ত্রী সীমা হামিদ ও নওফেলের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ আদালতের

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের স্ত্রী সীমা হামিদের আয়কর নথি অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

দুদকের উপ-পরিচালক কমলেশ মণ্ডলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে আবেদন করেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম। আবেদনে বলা হয়, জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত দুই কোটি ২৭ লাখ ৫৯ হাজার ৩০৮ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জনের অভিযোগে নওফেলের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়। সাবেক এই মন্ত্রীর ৪১টি ব্যাংক হিসাবে ১১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার ৬২৮ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে, যা ফৌজদারি অপরাধের সমতুল্য।

অপর আবেদনে একই কর্মকর্তা বলেন, সীমা হামিদ ২০টি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেছেন, যেগুলোতে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা জমা এবং ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

‘তিনি এই অর্থ কোথাও স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সীমা হামিদের আয়কর দলিল জব্দ করা প্রয়োজন।’

গত বছরের ২৬ নভেম্বর সীমার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়।

আয়কর নথি জব্দের আবেদনে দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মণ্ডল বলেন, সীমা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬৪ টাকার সম্পদ ভোগদখলে রেখেছেন। নিজ নামে ২০টি ব্যাংক হিসাবে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৯ টাকা জমা ও ১১ কোটি ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮১৮ টাকা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে, যা ‘অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন’।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিপুর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

ক্ষমতার পালাবদলের পর বিপু ও তার স্ত্রী ছাড়াও ছেলে জারিফ হামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। এ ছাড়া বিপু তার নিজের ৯৮টি ব্যাংক হিসাবে ৩ হাজার ১৮১ কোটি ৫৮ লাখ ৮৩ হাজার ৩১৩ টাকা জমা ও ৩ হাজার ১৩০ কোটি ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭২৯ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘সন্দেহজনক’ লেনদেন করেছেন। বিপুর ছেলে জারিফ হামিদের বিরুদ্ধে মামলায় ২০ কোটি ৮৭ লাখ ৬৬ হাজার ২০ টাকার ‘অবৈধ’ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জারিফ হামিদ তার বাবা নসরুল হামিদের ক্ষমতার ‘অপব্যবহার’ এবং ‘প্রভাব ও আর্থিক’ সহায়তার মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া, জারিফ তার ২০টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩১ টাকা জমা ও ১৭ কোটি ৪০ লাখ ৮৩ হাজার ৪৯৭ টাকা উত্তোলন করেছেন, যা ‘অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক’ লেনদেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ