
ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন এই দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। এ জন্য জনগণের মতামত নিচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। রাজধানীর বাংলামোটরে সংগঠনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখপাত্র সামান্থা শারমিন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদকে হটাতে পারলেও এখনো বিভিন্ন জায়গায় তাদের বিচরণ রয়েছে। আমরা পরোপুরিভাবে এখনো বিজয় লাভ করতে পারিনি। রাজনৈতিক দলগুলো ও রাজনৈতিক কাঠামো মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৪ পরবর্তী স্পিরিট ধারণ করে আমার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা মাথায় রেখে নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
নতুন দল গঠনের উদ্দেশ্যে সারা দেশের নাগরিকদের মতামত গ্রহণের কর্মসূচি ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এর আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে। আপনি কেমন দল চান আমরা তা জানতে চাই এবং সে আদলেই দলটি গড়তে চাই। কমেন্টে দেয়া ফরমে আপনার মতামত জানান। ফরমটি পূরণ করতে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগবে।’
ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টের কমেন্টে একটি ফর্মও যুক্ত করেছেন তিনি। ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ’ শীর্ষক শিরোনামের ওই ফর্মটিতে নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক কী হতে পারে সে বিষয়ে পরামর্শ চাওয়ার পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক দলের কাছে প্রত্যাশা ও বেশকিছু মতামত চাওয়া হয়েছে।
ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মধ্যে গেল বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দেড় দশকের শাসনামলের অবসান ঘটে। ক্ষমতার পালাবদলের এক মাস পর সেপ্টেম্বরে আন্দোলনের নেতাদের নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কমিটি গঠন করে সংগঠনের বিস্তৃতিও ঘটিয়েছেন তারা।
এদিকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নাগরিক কমিটি কিংবা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনোটিই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হবে না। বরং স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবেই থেকে যাবে। এই দুটি সংগঠন থেকে যারা রাজনীতিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক তারা নতুন দলে যোগ দেবেন।


